Dhaka 2:43 am, Sunday, 28 June 2026

শাপলাচত্বর হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুর তথ্য লুকাতে ভুমিকা ছিল সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মৃত্যুর তথ্য লুকাতে ভূমিকা ছিল সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর। এ ঘটনাকে পরিকল্পনামাফিক ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিলেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে ইন্টারনেট বন্ধ, দুটি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধসহ সেদিন যারা ভূমিকা রেখেছেন, তারাও আসামি হবেন।

আগামী ১৪ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন ট্রাইব্যুনালে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যুর আবেদন করে প্রসিকিউশন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন দীপু মনি। ওই দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একদল উশৃঙ্খল মানুষকে নির্মূল করেছেন বলে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করেন তিনি। এছাড়া শুরু থেকেই হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে উসকানিমূলক হিসেবে একাত্তর টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করেন সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

শুনানি শেষে তাদের হাজির করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৪ মে দিন ধার্য করা হয়।

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আগামী ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয় আসামি। তারা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

শাপলাচত্বর হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুর তথ্য লুকাতে ভুমিকা ছিল সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর

প্রকাশঃ 08:04:15 am, Thursday, 7 May 2026

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মৃত্যুর তথ্য লুকাতে ভূমিকা ছিল সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর। এ ঘটনাকে পরিকল্পনামাফিক ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিলেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে ইন্টারনেট বন্ধ, দুটি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধসহ সেদিন যারা ভূমিকা রেখেছেন, তারাও আসামি হবেন।

আগামী ১৪ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন ট্রাইব্যুনালে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যুর আবেদন করে প্রসিকিউশন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন দীপু মনি। ওই দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একদল উশৃঙ্খল মানুষকে নির্মূল করেছেন বলে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করেন তিনি। এছাড়া শুরু থেকেই হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে উসকানিমূলক হিসেবে একাত্তর টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করেন সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

শুনানি শেষে তাদের হাজির করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৪ মে দিন ধার্য করা হয়।

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আগামী ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয় আসামি। তারা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।