চোখ বাঁধা অবস্থায় দ্রুত সময়ে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ধনীসাফা ইউনিয়নের ফুলজুড়ী গ্রামের সিফাত আকন (১৮)।
১০টি মাস্ক পরতে তার সময় লেগেছে ১০ দশমিক ৩২ সেকেন্ড। জানুয়ারিতে তিনি এ রেকর্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাকে দেওয়া স্বীকৃতি এসেছে ২৮ এপ্রিল।
সিফাত আকন জানান, বছর চারেক আগে পত্রিকায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তার চোখে পড়ে। কৌতূহল থেকে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, বাংলাদেশেও কারও কারও এ রকম রেকর্ড আছে। সিফাতও তাই পরিকল্পনা শুরু করেন। তখন ছিল করোনাকাল, তাই মাস্কসংক্রান্ত কিছু করার কথাই সবার আগে মাথায় এসেছিল। ঠিক করেন, মাস্ক পরে রেকর্ড গড়বেন। তিনি বলেন, এই রেকর্ডটা প্রথম করেছিলেন একজন ভারতীয়। তার সম্ভবত ১১ দশমিক ৫৪ সেকেন্ডে সময় লেগেছিল। তখনই আমি তার এ রেকর্ড ভাঙার কথা চিন্তা করি। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও কোথাও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাইনি। এরপর আমি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস সম্পর্কে ধারণা পেতে ফেসবুক, ইউটিউবে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করি। সেখানেও কোনো পূর্ণাঙ্গ ‘গাইডলাইন’ মেলেনি।
সিফাত জানান, যারা আগে রেকর্ড করেছেন, তাদের ই-মেইলে বার্তা পাঠিয়ে প্রক্রিয়া জানতে চেয়েছেন। তবে ই-মেইলেও যথাযথ সাড়া পাননি। মূল সমস্যাটা হলো ইনফরমেশন। গাইডলাইনটা ঠিকমতো পাওয়া যায় না। আর প্রসেসটা (প্রক্রিয়া) অনেক লম্বা। প্রায় ৯ মাস লাগে।
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর লম্বা ছুটিতে আটঘাট বেঁধে শুরু হয় অনুশীলন। সিফাত জানান, শুরুর দিকে ২৫-২৬ সেকেন্ড লেগে যেত। কারণ, চ্যালেঞ্জ মূলত দুটি। প্রথমত চোখ বাঁধা থাকার কারণে মাস্ক হাতে তুলে নিতে সময় লেগে যায়। দ্বিতীয়ত, মাস্কটি ঠিকভাবে পরাও কঠিন। অনুশীলনের সময় মা, ছোট ভাই আর বন্ধু ইমনের উৎসাহ পেয়েছেন সিফাত।
১৮ জানুয়ারি সিফাত প্রয়োজনীয় নথিসহ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জন্য আবেদন করেন। তিন মাস পর ২৮ এপ্রিল ই-মেইলে রেকর্ডের স্বীকৃতি দেয় গিনেস। খবর শুনে সিফাতের চেয়েও বেশি খুশি হয়েছিলেন তার মা।
উচ্চমাধ্যমিক পাশ করা সিফাত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে পড়তে চান। সিফাতের বাবা আবদুল জলিল বনরক্ষীর চাকরি করেন। আর মা গৃহিণী। মা বেগম সুরমা জানান, সামনে সিফাতের আরও রেকর্ড গড়ার ইচ্ছা। এক মিনিটে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে জড়িয়ে ধরার রেকর্ড নিয়ে ভাবছেন তিনি। করতে চান এক মিনিটে সর্বোচ্চ ‘হ্যান্ডশেক’-এর রেকর্ডও। সিফাতের বাবা জলিল আকন জানান, ছেলের সাফল্যে খুশি। ভবিষ্যতে সে আরও ভালো কিছু করবে-এমনটাই প্রত্যাশা করেন।
এদিকে একটি দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার সোমবার (৪ মে) কার্যালয় ডেকে সিফাতকে সংবর্ধনা দেন। তিনি তার রেকর্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে ভবিষ্যতে আরও রেকর্ড করার উৎসাহ দেন। এ সময় পৌর বিএনপির সভাপতি জসীম উদ্দীন ফরাজী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ও সিফাতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের তথ্য ডেস্ক 



















