Dhaka 3:35 am, Sunday, 28 June 2026

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানে দেড় বছরে ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৭৯ জন আটক

সুন্দরবন অঞ্চলে বনদস্যু দমনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ এবং ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন এর আওতায় নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত দেড় বছরে ৪০দস্যু, ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩৭ জেলেসহ ২ পর্যটককে উদ্ধার করেছে।

গত রোববার (৩ মে) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবনে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় একটি যৌথ টহল পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি, সুন্দরবন নির্ভর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে বনদস্যু বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সুন্দরবনের ভেতরে ও আশপাশের নদী ও খালে নজরদারি পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এসব এলাকায় দস্যুতা অনেকাংশে কমে এসেছে।

গত এক বছরে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযানে করিম শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ, দুলাভাই ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু চক্রের মোট ৪০ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

এ সময় ৪৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৮৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ এবং ২টি হাতবোমাসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, দস্যুদের কয়েকটি আস্তানা শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে ৩৭ জন জেলে, ২ জন পর্যটক এবং ১ জন রিসোর্ট মালিককে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
সূত্র : বাসস

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানে দেড় বছরে ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৭৯ জন আটক

প্রকাশঃ 04:07:08 pm, Monday, 4 May 2026

সুন্দরবন অঞ্চলে বনদস্যু দমনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ এবং ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন এর আওতায় নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত দেড় বছরে ৪০দস্যু, ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩৭ জেলেসহ ২ পর্যটককে উদ্ধার করেছে।

গত রোববার (৩ মে) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবনে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় একটি যৌথ টহল পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি, সুন্দরবন নির্ভর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে বনদস্যু বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সুন্দরবনের ভেতরে ও আশপাশের নদী ও খালে নজরদারি পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এসব এলাকায় দস্যুতা অনেকাংশে কমে এসেছে।

গত এক বছরে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযানে করিম শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ, দুলাভাই ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু চক্রের মোট ৪০ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

এ সময় ৪৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৮৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ এবং ২টি হাতবোমাসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, দস্যুদের কয়েকটি আস্তানা শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে ৩৭ জন জেলে, ২ জন পর্যটক এবং ১ জন রিসোর্ট মালিককে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
সূত্র : বাসস