খুলনা জেলাসহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ততম সংযোগস্থল রূপসা ঘাট এখন হাজারো মানুষের মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন রূপসা উপজেলা এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের মধ্যে যাতায়াতকারী হাজার-হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন।
জরাজীর্ণ গ্যাংওয়ে, বর্ধিত টোল এবং অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাংওয়ে ও দুর্ঘটনা
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাটের পল্টুনগুলো মাঝেমধ্যে রং করা হলেও মূল গ্যাংওয়ের কোনো সংস্কার নেই। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় গ্যাংওয়েটি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়রা একে ‘লাইফ সাপোর্টে’ থাকা কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করছেন।
জরাজীর্ণ এই গ্যাংওয়ে দিয়ে পারাপারের সময় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং শ্রমজীবী মানুষ প্রতিদিন এক বুক আতঙ্ক নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন।

টোল বৈষম্য ও জনরোষ
যাত্রীদের প্রধান অভিযোগের একটি হলো আকস্মিক টোল বৃদ্ধি। আগে যাত্রীপ্রতি টোল ১ টাকা থাকলেও ঈদের কিছু আগে তা বাড়িয়ে ২ টাকা করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী জেলখানার ঘাট বর্তমানে সম্পূর্ণ টোলমুক্ত থাকলেও রূপসা ঘাটে কেন এই বৈষম্য—এমন প্রশ্ন তুলছেন নিত্যযাত্রীরা। সাধারণ মানুষের দাবি, একই নদীতে দুই ঘাটের ভিন্ন নিয়ম সাধারণ মানুষের পকেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
নারী হয়রানি ও বিশৃঙ্খলা
টোল আদায়ের প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। টোল আদায়কারীদের অবস্থানের কারণে নারী যাত্রীদের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটে। অনেক সময় ভিড়ের সুযোগে নারীরা শারীরিক লাঞ্ছনা বা ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া ট্রলার মাঝিদের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। ছোট ট্রলারে ২৫ জন এবং বড় ট্রলারে ৩০ জন যাত্রী নেওয়ার নিয়ম থাকলেও মুনাফার লোভে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি যাত্রী তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এই অনিয়ম আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা
একাধিকবার সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
যাত্রীদের মতে, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রশাসনের টনক নড়া উচিত।
সাধারণ মানুষের দাবি
রূপসা ঘাটের এই বিশৃঙ্খল পরিবেশ দূর করতে সাধারণ যাত্রীরা একতাবদ্ধ হয়ে কয়েকটি দাবি তুলেছেন:
১. অবিলম্বে জরাজীর্ণ গ্যাংওয়ে পরিবর্তন করে নতুন ও নিরাপদ গ্যাংওয়ে স্থাপন।
২. জেলখানার ঘাটের মতো রূপসা ঘাটকেও সম্পূর্ণ টোলমুক্ত ঘোষণা করা।
৩. ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ এবং নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
অনিরাপদ পারাপার আর প্রশাসনিক অবহেলার অবসান ঘটিয়ে রূপসা ঘাটে একটি সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এখন এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি।
দেশের তথ্য ডেস্ক 

























