Dhaka 3:36 am, Sunday, 28 June 2026

ব্যক্তিগত কোন্দলে বিআরটিসির নাম ব্যবহারের অপচেষ্টা: ভাবমূর্তি সংকটে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা

খুলনা নগরীর শিরোমণি এলাকায় বিআরটিসি চালক রনি ডালির ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক। জুতা হারানো ও এলাকা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য থেকে সৃষ্ট জনরোষকে কৌশলে ‘ডিপোর দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এতে কোনো কারণ ছাড়াই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিআরটিসির ভাবমূর্তি মারাত্বকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২২ এপ্রিল) দিনগত রাতে প্রয়াত এক উপজেলা চেয়ারম্যানের দোয়া অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিতে রনি ডালির ভাড়া বাসার মালিকের কাছে কয়েকজন ব্যক্তি যান। তারা চলে যাওয়ার পর রনি ডালি তার জুতা খুঁজে না পেয়ে ক্ষিপ্ত হন। এর জের ধরে তিনি স্থানীয় শাহিন নামক এক ব্যক্তির বাসায় গিয়ে জুতা চুরির অপবাদ দেন এবং এলাকাবাসীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।

স্থানীয়দের দাবি, এলাকা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এই ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিরোধের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে রনি ডালি বিষয়টিকে বিআরটিসি ডিপোর দুর্নীতির সাথে জুড়ে দিয়েছেন। আইনি জটিলতা এড়াতে এবং ব্যক্তিগত আচরণকে ঢাকতে তিনি পেশাগত ও রাজনৈতিক ঢাল ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার সাথে বিআরটিসি ডিপোর কোনো সম্পর্ক না থাকলেও রনি ডালি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিষ্ঠানটির নাম জড়িয়েছেন। এতে করে জনমনে বিআরটিসি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ˆতরি হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীর ব্যক্তিগত দায় যখন প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো হয়, তখন ওই সংস্থার দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম নষ্ট হয়।শিরোমণি এলাকার সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জুতা হারানো ও এলাকা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের মতো একটি তুচ্ছ ও ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির রং মাখানো হলো, তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।

সাধারণ মানুষের দাবি, প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ব্যক্তিস্বার্থৈ বিআরটিসির মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ধূলিসাৎ করতে না পারে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: মামলা, গ্রেপ্তার ১

ব্যক্তিগত কোন্দলে বিআরটিসির নাম ব্যবহারের অপচেষ্টা: ভাবমূর্তি সংকটে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা

প্রকাশঃ 12:07:41 pm, Tuesday, 28 April 2026

খুলনা নগরীর শিরোমণি এলাকায় বিআরটিসি চালক রনি ডালির ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক। জুতা হারানো ও এলাকা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য থেকে সৃষ্ট জনরোষকে কৌশলে ‘ডিপোর দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এতে কোনো কারণ ছাড়াই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিআরটিসির ভাবমূর্তি মারাত্বকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২২ এপ্রিল) দিনগত রাতে প্রয়াত এক উপজেলা চেয়ারম্যানের দোয়া অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিতে রনি ডালির ভাড়া বাসার মালিকের কাছে কয়েকজন ব্যক্তি যান। তারা চলে যাওয়ার পর রনি ডালি তার জুতা খুঁজে না পেয়ে ক্ষিপ্ত হন। এর জের ধরে তিনি স্থানীয় শাহিন নামক এক ব্যক্তির বাসায় গিয়ে জুতা চুরির অপবাদ দেন এবং এলাকাবাসীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।

স্থানীয়দের দাবি, এলাকা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এই ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিরোধের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে রনি ডালি বিষয়টিকে বিআরটিসি ডিপোর দুর্নীতির সাথে জুড়ে দিয়েছেন। আইনি জটিলতা এড়াতে এবং ব্যক্তিগত আচরণকে ঢাকতে তিনি পেশাগত ও রাজনৈতিক ঢাল ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার সাথে বিআরটিসি ডিপোর কোনো সম্পর্ক না থাকলেও রনি ডালি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিষ্ঠানটির নাম জড়িয়েছেন। এতে করে জনমনে বিআরটিসি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ˆতরি হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীর ব্যক্তিগত দায় যখন প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো হয়, তখন ওই সংস্থার দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম নষ্ট হয়।শিরোমণি এলাকার সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জুতা হারানো ও এলাকা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের মতো একটি তুচ্ছ ও ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির রং মাখানো হলো, তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।

সাধারণ মানুষের দাবি, প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ব্যক্তিস্বার্থৈ বিআরটিসির মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ধূলিসাৎ করতে না পারে।