Dhaka 5:17 pm, Friday, 24 April 2026

যশোরে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

যশোর প্রতিনিধি
যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার কাটাখাল এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পৌরসভার লাইনের সঙ্গে সংযুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে ঝিকরগাছা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় দাবি আদায়ে তাদেরকে নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ হয়ে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করেন এলাকাবাসী। এতে কিছু সময়ের জন্য অফিসের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, প্রায় চার বছর আগে ফিডার পরিবর্তনের পর থেকেই তারা স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফেজ সমস্যার কারণে সামান্য বাতাস বা ঝড়-বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়, যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসে না। তারা দ্রুত ফিডার বা ফেজ পরিবর্তনের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেন।

কাটাখাল কলোনির বাসিন্দা মো. জালাল হোসেন বলেন, ২৪ ঘণ্টায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই। কখন আসে, কখন যায়— কোনো ঠিক নেই। বাধ্য হয়েই আমরা বিক্ষোভে নেমেছি।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে বিদ্যুৎ গিয়ে ১১টার দিকে এসে মাত্র দুই মিনিট ছিল। পরে আবার দুপুর ২টার দিকে এসেছে। আধাঘণ্টা থেকে আবার চলে গেছে। রাতেরও চিত্র একই।

এসএসসি পরীক্ষার্থী সোহানা খাতুন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের পড়াশোনায় খুবই অসুবিধা হচ্ছে। ফলাফলে এর প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করেন, গাছের পাতা নড়লেই বিদ্যুৎ চলে যায়। আমরা চরম অবহেলার শিকার।

ঝিকরগাছা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের (কাটাখাল) সাবেক পৌর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বলেন, এ এলাকায় বিদ্যুতের সমস্যা দীর্ঘদিনের। কর্তৃপক্ষকে অনেকবার বলেও কোনো সমাধান হয়নি। আমরা নামেই পৌরসভার বাসিন্দা।

ঝিকরগাছা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। এলাকাবাসী বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় পরে তারা অবরোধ তুলে নেন।

এ বিষয়ে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ঝিকরগাছা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গোলাম কাদির বলেন, সমস্যাটি মূলত টেকনিক্যাল। দ্রুত একটি টেকনিশিয়ান টিম পাঠিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা বেশি, সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

প্রকাশঃ 04:31:59 pm, Thursday, 23 April 2026

যশোর প্রতিনিধি
যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার কাটাখাল এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পৌরসভার লাইনের সঙ্গে সংযুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে ঝিকরগাছা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় দাবি আদায়ে তাদেরকে নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ হয়ে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করেন এলাকাবাসী। এতে কিছু সময়ের জন্য অফিসের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, প্রায় চার বছর আগে ফিডার পরিবর্তনের পর থেকেই তারা স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফেজ সমস্যার কারণে সামান্য বাতাস বা ঝড়-বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়, যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসে না। তারা দ্রুত ফিডার বা ফেজ পরিবর্তনের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেন।

কাটাখাল কলোনির বাসিন্দা মো. জালাল হোসেন বলেন, ২৪ ঘণ্টায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই। কখন আসে, কখন যায়— কোনো ঠিক নেই। বাধ্য হয়েই আমরা বিক্ষোভে নেমেছি।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে বিদ্যুৎ গিয়ে ১১টার দিকে এসে মাত্র দুই মিনিট ছিল। পরে আবার দুপুর ২টার দিকে এসেছে। আধাঘণ্টা থেকে আবার চলে গেছে। রাতেরও চিত্র একই।

এসএসসি পরীক্ষার্থী সোহানা খাতুন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের পড়াশোনায় খুবই অসুবিধা হচ্ছে। ফলাফলে এর প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করেন, গাছের পাতা নড়লেই বিদ্যুৎ চলে যায়। আমরা চরম অবহেলার শিকার।

ঝিকরগাছা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের (কাটাখাল) সাবেক পৌর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বলেন, এ এলাকায় বিদ্যুতের সমস্যা দীর্ঘদিনের। কর্তৃপক্ষকে অনেকবার বলেও কোনো সমাধান হয়নি। আমরা নামেই পৌরসভার বাসিন্দা।

ঝিকরগাছা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। এলাকাবাসী বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় পরে তারা অবরোধ তুলে নেন।

এ বিষয়ে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ঝিকরগাছা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গোলাম কাদির বলেন, সমস্যাটি মূলত টেকনিক্যাল। দ্রুত একটি টেকনিশিয়ান টিম পাঠিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা বেশি, সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।