Dhaka 12:00 pm, Sunday, 28 June 2026

দিঘলিয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের হাতছানি, কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাসি

দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃ
দিঘলিয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের হাতছানি। বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। গাজীরহাট ইউনিয়ন ক্রপস কাটিংয়ে ফলন এসেছে প্রতি হেক্টরে ৮.০৮ মেট্রিক টন। উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে হাইব্রিড ৩৩ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন এবং উপসী ২ হাজার ৮৩ মেট্রিক টন। মোট উৎপাদন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ২২৫ মেট্রিক টন।

দিঘলিয়ার দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে এখন শুধু সবুজের মায়াবী হাতছানি। বসন্তের দখিনা বাতাসে দুলছে কচি ধানের ডগা। সেই দোলায় লুকিয়ে আছে হাজারো কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। চৈত্রের তপ্ত দুপুরে সবুজ ধানক্ষেতের সতেজ ঘ্রাণ আর ঢেউ খেলানো দৃশ্য জানান দিচ্ছে, এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন কেবল সময়ের ব্যাপার। বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও নিরবচ্ছিন্ন সেচ দিতে পারায় মাঠে মাঠে বোরো ধান ক্ষেতে এমন সবুজের সমারোহ ঘটেছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকেরা বলছেন, এবারের বোরো মৌসুমে এখনো পর্যন্ত সেচ নিয়ে তাদের কোনো দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে চরম তেল সংকটেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং চাহিদামতো ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়ায় তারা বোরো ক্ষেতে প্রয়োজন মতো সেচ দিতে পারছেন। বিদ্যুৎ এবং ডিজেলের ওপর তাদের সেচ কাজ নির্ভরশীল। বোরো ধান উৎপাদনের সাথে জড়িত শক্তিশালী এ দুটি উপকরণ নিরবচ্ছিন্ন হওয়ায় তাদের কোনো দুশ্চিন্তা হয়নি।

দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ৪ হাজার ৮৭৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৮৮৫ হেক্টর। যা গত মৌসুমের তুলনায় ২৪ হেক্টর কম। গত মৌসুমে ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল।

একদিকে চলছে বৈশ্বিক সংকট, পাশাপাশি চলছে জ্বালানি তেল ডিজেল সংকট।

অন্যদিকে গতবারের চেয়ে ২৪ হেক্টর কম জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শেষ দিকে এসে জ্বালানি তেল ডিজেল সংকট ও সেচ নিয়ে কৃষকের বড় ধরণের কোনো দুশ্চিন্তার কারণ হয়নি।

এখন লোডশেডিং হলেও কয়েকদিন আগেও কৃষকেরা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎসেবা পেয়েছেন। আবার যেখানে ডিজেলচালিত মেশিনের ওপর সেচ নির্ভর; সেখানে কৃষকেরা পর্যাপ্ত ডিজেল পেয়েছেন। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ এবং ডিজেলের সমন্বয়ে কৃষক সুবিধা মতো বোরো ধানে সেচ দিতে পেরেছেন।

দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা গ্রামের কৃষক মোল্লা কামরুল ইসলাম বলেন, এবার ৫৭ শতাংশ জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। আমার সবটুকু জমি বিদ্যুৎচালিত পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। আমার ধানের চেহারা খুব সুন্দর হয়েছে। উৎপাদনও ভালো হবে।

দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ব্লকে কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসারগণ এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, আমরা আমাদের স্ব-স্ব ব্লকের কৃষকদের নিয়ে দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করেছি। কৃষকেরা তাদের কষ্টের ফল পাবে বলে আশা করছি। দিঘলিয়ায় মাঠ ভরা ফসল। কৃষকের মুখে হাসি।

দিঘলিয়া কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কপিল দেব বসাক বলেন, বোরো ধানের সেচ নিয়ে আমাদের কাছে এখনো পর্যন্ত কোনো কৃষক অভিযোগ করেননি। চাহিদামতো বিদ্যুতের পাশাপাশি ডিজেল পাওয়ায় বোরো ধানের সেচে কৃষকদের কোনো অসুবিধা হয়নি।

দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ কিশোর আহমেদ বলেন, গত বছরের তুলনায় ২৪ হেক্টর কম জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল। এবার বোরো মৌসুমে ৪ হাজার ৮৭৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। ফলনও খুব ভালো হবে ইনশাআল্লাহ। বোরো ধানে এবার দিঘলিয়া উপজেলায় বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে। এর মধ্যে ব্রিধান-৮৮, ব্রিধান-৮৯ ব্রিধান-১০২, ১০১, ১০৫, ১০৭, ১১৪ এবং ঘেরে হাইব্রিড ধানের চারা রোপন করা হয়েছে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসি জাদুতে জর্ডানকে উড়িয়ে শতভাগ জয়ে গ্রুপসেরা আর্জেন্টিনা

দিঘলিয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের হাতছানি, কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাসি

প্রকাশঃ 08:08:08 pm, Wednesday, 22 April 2026

দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃ
দিঘলিয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের হাতছানি। বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। গাজীরহাট ইউনিয়ন ক্রপস কাটিংয়ে ফলন এসেছে প্রতি হেক্টরে ৮.০৮ মেট্রিক টন। উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে হাইব্রিড ৩৩ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন এবং উপসী ২ হাজার ৮৩ মেট্রিক টন। মোট উৎপাদন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ২২৫ মেট্রিক টন।

দিঘলিয়ার দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে এখন শুধু সবুজের মায়াবী হাতছানি। বসন্তের দখিনা বাতাসে দুলছে কচি ধানের ডগা। সেই দোলায় লুকিয়ে আছে হাজারো কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। চৈত্রের তপ্ত দুপুরে সবুজ ধানক্ষেতের সতেজ ঘ্রাণ আর ঢেউ খেলানো দৃশ্য জানান দিচ্ছে, এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন কেবল সময়ের ব্যাপার। বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও নিরবচ্ছিন্ন সেচ দিতে পারায় মাঠে মাঠে বোরো ধান ক্ষেতে এমন সবুজের সমারোহ ঘটেছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকেরা বলছেন, এবারের বোরো মৌসুমে এখনো পর্যন্ত সেচ নিয়ে তাদের কোনো দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে চরম তেল সংকটেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং চাহিদামতো ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়ায় তারা বোরো ক্ষেতে প্রয়োজন মতো সেচ দিতে পারছেন। বিদ্যুৎ এবং ডিজেলের ওপর তাদের সেচ কাজ নির্ভরশীল। বোরো ধান উৎপাদনের সাথে জড়িত শক্তিশালী এ দুটি উপকরণ নিরবচ্ছিন্ন হওয়ায় তাদের কোনো দুশ্চিন্তা হয়নি।

দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ৪ হাজার ৮৭৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৮৮৫ হেক্টর। যা গত মৌসুমের তুলনায় ২৪ হেক্টর কম। গত মৌসুমে ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল।

একদিকে চলছে বৈশ্বিক সংকট, পাশাপাশি চলছে জ্বালানি তেল ডিজেল সংকট।

অন্যদিকে গতবারের চেয়ে ২৪ হেক্টর কম জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শেষ দিকে এসে জ্বালানি তেল ডিজেল সংকট ও সেচ নিয়ে কৃষকের বড় ধরণের কোনো দুশ্চিন্তার কারণ হয়নি।

এখন লোডশেডিং হলেও কয়েকদিন আগেও কৃষকেরা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎসেবা পেয়েছেন। আবার যেখানে ডিজেলচালিত মেশিনের ওপর সেচ নির্ভর; সেখানে কৃষকেরা পর্যাপ্ত ডিজেল পেয়েছেন। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ এবং ডিজেলের সমন্বয়ে কৃষক সুবিধা মতো বোরো ধানে সেচ দিতে পেরেছেন।

দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা গ্রামের কৃষক মোল্লা কামরুল ইসলাম বলেন, এবার ৫৭ শতাংশ জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। আমার সবটুকু জমি বিদ্যুৎচালিত পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। আমার ধানের চেহারা খুব সুন্দর হয়েছে। উৎপাদনও ভালো হবে।

দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ব্লকে কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসারগণ এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, আমরা আমাদের স্ব-স্ব ব্লকের কৃষকদের নিয়ে দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করেছি। কৃষকেরা তাদের কষ্টের ফল পাবে বলে আশা করছি। দিঘলিয়ায় মাঠ ভরা ফসল। কৃষকের মুখে হাসি।

দিঘলিয়া কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কপিল দেব বসাক বলেন, বোরো ধানের সেচ নিয়ে আমাদের কাছে এখনো পর্যন্ত কোনো কৃষক অভিযোগ করেননি। চাহিদামতো বিদ্যুতের পাশাপাশি ডিজেল পাওয়ায় বোরো ধানের সেচে কৃষকদের কোনো অসুবিধা হয়নি।

দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ কিশোর আহমেদ বলেন, গত বছরের তুলনায় ২৪ হেক্টর কম জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল। এবার বোরো মৌসুমে ৪ হাজার ৮৭৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। ফলনও খুব ভালো হবে ইনশাআল্লাহ। বোরো ধানে এবার দিঘলিয়া উপজেলায় বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে। এর মধ্যে ব্রিধান-৮৮, ব্রিধান-৮৯ ব্রিধান-১০২, ১০১, ১০৫, ১০৭, ১১৪ এবং ঘেরে হাইব্রিড ধানের চারা রোপন করা হয়েছে।