গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের ১৪ শিক্ষার্থী গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। এবার তারা ফের ফরম পূরণ করে ওই বিষয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে ১৪ জনের মধ্যে ৯ জনেরই ফরম পূরণ হয়নি।
পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক ফরম পূরণের টাকা নিয়েছেন, তবে ফরম পূরণ করেননি।
এতে ৯ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় বসা অনিশ্চিত। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
এমন ঘটনা ঘটেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কামানখোলা অলি উল্ল্যা মুসলিম পলিটেকনিক একাডেমিতে। শিক্ষার্থী অভিযোগ প্রধান শিক্ষক ছৈয়দ আহমেদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে।
তার অবহেলার কারণেই ৯ জন পরীক্ষার্থীর ‘কপাল পুড়েছে’।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফরম পূরণের জন্য প্রধান শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ড ফি ১১০০ টাকা ও যাতায়াত ভাড়ার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে নিয়েছেন। প্রত্যেকই ১৫০০ টাকা করে গণিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য পরিশোধ করেছে। এর আগে তারা কোচিং ফি, লেট ফি এবং বকেয়া বেতনসহ যাবতীয় নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করেছিল।
কিন্তু এরপরও তাদের ফরম পূরণ হয়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৩ মে গণিত পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য গেল বছর অকৃতকার্য ১৪ পরীক্ষার্থী ফরম পূরণের জন্য নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করা হয়। কিন্তু এর মধ্যে ৯ জনের ফরম পূরণ করা হয়নি। ১৬ এপ্রিল বিদ্যালয়ে প্রবেশপত্র আসে।
অন্যরা প্রবেশপত্র পেলেও ওই ৯ জন পায়নি। এরপর কয়েকজন অভিভাবক শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে জানতে পারেন তাদের ফরম পূরণ হয়নি। এ ছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে আর কিছু করার নেই। আরো কিছুদিন আগে জানলে হয়তো শিক্ষা বোর্ড তাদের পরীক্ষার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারতো। ঘটনাটি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষার জন্য সব দাবি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর পরও ফরম পূরণ করা হয়নি। ওই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর দায় সম্পূর্ণভাবে প্রধান শিক্ষকের। তার কারণেই এখন ৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসতে পারবে না। একেকজন থেকে ১৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪০০ টাকা করে নিয়েছে গাড়ি ভাড়া। এখনো সময় আছে আমাদের সন্তানরা যেন পরীক্ষা দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ দাবি করছি।’
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম শিহাব বলেন, ‘গণিত ছাড়া গেল বছর প্রত্যেক বিষয়ে আমাদের ভালো ফলাফল রয়েছে। এবার গণিতে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। সেই প্রত্যাশায় আমরা ফরম পূরণের টাকাও জমা দিয়েছি। কিন্তু প্রধান শিক্ষক আমাদের ফরম পূরণ করেনি। এখন আমরা খুবই বিপাকে রয়েছি।’
প্রধান শিক্ষক ছৈয়দ আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘বোর্ড ১৪ জনের মধ্যে ৫ জনকে পরীক্ষা বসতে অনুমোদন দিয়েছে। বোর্ডে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ৯ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হয়নি। যে টাকা ফরম পূরণের জন্য নিয়েছি, তার চেয়েও বেশি খরচ হয়েছে। আগামী বছর তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। কোন প্রকার ফি নেওয়া ছাড়াই এ ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ডে কথা বলেছি। প্রধান শিক্ষককে বোর্ডে পাঠানো হবে। আশা করছি, ৯ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসতে পারবে। সে ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব অবহেলা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত) আনোয়ার হোসাইন পাটোয়ারী বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে ইউএনওকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে তদন্তপূর্ববক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএনওকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
দেশের তথ্য ডেস্ক 



















