Dhaka 5:18 pm, Friday, 24 April 2026

রিমান্ড শেষে আদালতে দুই আসামি, শ্রীলেখা হত্যা রহস্য এখনো অমীমাংসিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছায় শ্রীলেখা (৫৫) হত্যা মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে সন্দেহভাজন দুই আসামি সম্ভু সানা (৬৫) ও সঞ্জয় মন্ডল (৪৫)-কে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

থানা সূত্র জানায়, রিমান্ড চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদে তারা শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন। তবে এ সময়ের মধ্যে মামলার উল্লেখযোগ্য কোনো ক্লু বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, গত ১০ এপ্রিল সোলাদানা ইউনিয়নের পশ্চিম দীঘা এলাকা থেকে সম্ভু সানা ও সঞ্জয় মন্ডলকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়। কিন্তু তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে তেমন অগ্রগতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, আসামিদের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, পূর্বশত্রুতার জেরে একটি পক্ষ তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। সম্ভু সানার মেয়ে ও সঞ্জয় মন্ডলের স্ত্রী জানান, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তাদের স্বজনদের ওপর কোনো নির্যাতন হয়নি এবং তারা সুস্থ আছেন। তারা এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলেও দাবি করেন।

এর আগে নিহত শ্রীলেখার দেবর প্রসেন সানা, তার স্ত্রী বিজলী, ছেলে হিরক ও পুত্রবধূ রাখিকেও একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের একটি অংশ তাদের দিকেও সন্দেহ প্রকাশ করলেও মামলার বাদী তা মানতে নারাজ।

স্থানীয়দের মতে, খাস জমি নিয়ে বিরোধ, পানি সরবরাহের ক্যানেল ও গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে শ্রীলেখার পরিবারের সঙ্গে সম্ভু সানার বিরোধ ছিল, যা নির্বাহী আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি রাতে পশ্চিম দীঘা গ্রামে নিজ বাড়ির রান্নাঘরে একা থাকা অবস্থায় শ্রীলেখাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ২৩ জানুয়ারি নিহতের ছেলে গোবিন্দ সানা অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পাইকগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল আজিজ জানান, কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাইকগাছা থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, “কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে, আশা করছি দ্রুতই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।”

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রিমান্ড শেষে আদালতে দুই আসামি, শ্রীলেখা হত্যা রহস্য এখনো অমীমাংসিত

প্রকাশঃ 01:12:05 pm, Tuesday, 21 April 2026

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছায় শ্রীলেখা (৫৫) হত্যা মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে সন্দেহভাজন দুই আসামি সম্ভু সানা (৬৫) ও সঞ্জয় মন্ডল (৪৫)-কে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

থানা সূত্র জানায়, রিমান্ড চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদে তারা শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন। তবে এ সময়ের মধ্যে মামলার উল্লেখযোগ্য কোনো ক্লু বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, গত ১০ এপ্রিল সোলাদানা ইউনিয়নের পশ্চিম দীঘা এলাকা থেকে সম্ভু সানা ও সঞ্জয় মন্ডলকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়। কিন্তু তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে তেমন অগ্রগতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, আসামিদের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, পূর্বশত্রুতার জেরে একটি পক্ষ তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। সম্ভু সানার মেয়ে ও সঞ্জয় মন্ডলের স্ত্রী জানান, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তাদের স্বজনদের ওপর কোনো নির্যাতন হয়নি এবং তারা সুস্থ আছেন। তারা এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলেও দাবি করেন।

এর আগে নিহত শ্রীলেখার দেবর প্রসেন সানা, তার স্ত্রী বিজলী, ছেলে হিরক ও পুত্রবধূ রাখিকেও একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের একটি অংশ তাদের দিকেও সন্দেহ প্রকাশ করলেও মামলার বাদী তা মানতে নারাজ।

স্থানীয়দের মতে, খাস জমি নিয়ে বিরোধ, পানি সরবরাহের ক্যানেল ও গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে শ্রীলেখার পরিবারের সঙ্গে সম্ভু সানার বিরোধ ছিল, যা নির্বাহী আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি রাতে পশ্চিম দীঘা গ্রামে নিজ বাড়ির রান্নাঘরে একা থাকা অবস্থায় শ্রীলেখাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ২৩ জানুয়ারি নিহতের ছেলে গোবিন্দ সানা অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পাইকগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল আজিজ জানান, কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাইকগাছা থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, “কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে, আশা করছি দ্রুতই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।”