রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এক কৃষকের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার পর ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকির অভিযোগও করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী মো. মোসলিম মিয়া জানান, পারুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল ইসলাম রাজ্জাকের নেতৃত্বে তার বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। ঘুমন্ত অবস্থায় পরিবারসহ ঘরে থাকা অবস্থায় তাদের ওপর হামলা চালিয়ে উত্তর দুয়ারি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে তার ভাতিজা আশিকুর রহমান গুরুতর আহত হন এবং তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর গত ৩ এপ্রিল মোসলিম মিয়া বাদী হয়ে রেজাউলসহ ১৪ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মোসলিম মিয়ার দাবি, পুরনো জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে এই হামলা সংঘটিত হয়। মামলার পর থেকেই আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেতা রেজাউল আমাকে হুমকি দিতেছে, “মামলা করে আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের কিছুই করতে পারবি না। এখন যদি তোকে মেরে ফেলি, কী করবি?” ঘটনার সত্যটা আছে জন্যই তো ওরা এত ক্ষমতাবান হওয়ার পরও পুলিশ মামলা নিছে। কিন্তু এখন দেখতেছি আমি হয়তো আর ন্যায়বিচার পাব না। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি সরকারের কাছে ন্যায্য বিচার চাই।’
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম রাজ্জাক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মামলায় আমার নাম ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আশা করি আদালত থেকে খালাস পাব।”
বিএনপির পীরগাছা উপজেলা সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, “আমাদের ইউনিয়ন সভাপতি রেজাউল এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন না। আমরা প্রশাসনের ওপর কোনো চাপ দেইনি।”
তবে ভুক্তভোগী মোসলিম মিয়া নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন এবং সরকারের কাছে ন্যায্য বিচার চেয়েছেন।
দেশের তথ্য ডেস্ক 



















