বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সামনের সারির যোদ্ধা ছিলেন আলী রায়হান (২৮)। সহযোদ্ধাদের প্রায়ই বলতেন, “যদি কেউ শহীদ হন, তবে যেন সেই সৌভাগ্য আমার হয়।” শেষ পর্যন্ত যেন সেই কথাই বাস্তবে পরিণত হলো। ৫ আগস্ট দুপুরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহীতে নেমে আসে শোকের ছায়া।
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার মঙ্গলপাড়া গ্রামের সন্তান আলী রায়হান ছিলেন এক মেধাবী শিক্ষার্থী। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজে। হিসাববিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেন ২০২৩ সালে। একটি ভালো চাকরি করে দরিদ্র বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ছিল তার।
আলী রায়হান পড়াশোনার পাশাপাশি ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সংগঠনভক্ত, নম্র-ভদ্র, নিষ্ঠাবান এই তরুণ রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনে ছিলেন সক্রিয়। তার সহযোদ্ধা নাজির আহমেদ সুপ্ত বলেন, “গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগের রাতেই ফজরের নামাজের পর শহীদি মৃত্যুর জন্য দোয়া করেন তিনি।”
ঘটনার দিন রাজশাহী মহানগরের আলুপট্টিতে বৈষম্যবিরোধী মিছিল চলাকালে হঠাৎ ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও পুলিশের গুলিতে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। দ্রুত রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করানো হলেও পরে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের একটি দল ভুলবশত অ্যাম্বুলেন্স ভেঙে ফেলায় ঢাকায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে আবার রামেক হাসপাতালে অপারেশন হলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মৃত্যুবরণ করেন আলী রায়হান।
পরদিন ৯ আগস্ট রাজশাহী কলেজ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জামায়াত ও বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়।
আলী রায়হানের বাবা মো. মুসলেম উদ্দিন বলেন, “আমরা সন্তান হারিয়ে যে কষ্টের মধ্যে আছি তা কাউকে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবি জানাই।”
নাজির আহমেদ সুপ্ত জানান, এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা হয়েছে। যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের দুজন কর্মী গ্রেপ্তার হলেও অধিকাংশ আসামি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
শহীদ আলী রায়হানের অকাল মৃত্যু শুধু পরিবার নয়, পুরো ছাত্র আন্দোলন ও সমাজের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
দেশের তথ্য ডেস্ক 



















