Dhaka 1:12 am, Monday, 29 June 2026

পাইকগাছায় পরিত্যক্ত আদালত ভবনে চলছে বিচারিক কার্যক্রম পরিদর্শনে নির্বাহী স্থাপতি সুমন বিশ্বাস

 

শাহরিয়ার কবির

খুলনার পাইকগাছাই সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের পরিত্যক্ত ভবনে চলছে বিচারিক কার্যক্রম।
দীর্ঘদিন ভবনটির ছাদের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিলেও সংস্কারের অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

উপকূলীয় জনপদে জীবনমানের ও পরিবর্তন এসেছে তবে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। আদালত দুটির পুরনো সেই পরিত্যক্ত ভবনে চলছে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম। দুর্যোগ প্রবণ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা প্রায় ৪০ বছরের অধিক পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ আদালত ভবন গুলো পূর্ণনির্মাণে এখনো পর্যন্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এছাড়া আদালতের ১৫ জন কর্মচারী ৭১ জন আইনজীবী ও ৯০ জন আইনজীবী সহকারী ও তাদের শিক্ষানবিশ ঝুঁকি নিয়ে কর্মরত রয়েছে।

সূত্র জানায়, ১৮৮৪ সালে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সিনিয়র সহকারী জজ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৯ সালে সরকার দেশের উপজেলা পর্যায়ে আদালত গুলো জেলাতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিলেও জেলা সদর থেকে ৬৬ কি: মি: দূরত্ব হওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় আদালতটি পাইকগাছাতে রয়ে যায়। এতে সময়, হয়রানীর হাত থেকে পরিত্রাণ পায় খুলনার পাইকগাছা উপকূলীয় অবহেলিত জনপদের বঞ্চিত সাধারণ মানুষ।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার বলেন যে, প্রতিনিয়ত জরাজীর্ণ আদালত ভবনে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে আশঙ্কায় কাজ করে। নিরাপত্তার স্বার্থে সুষ্ঠুভাবে আদালতের বিচারক কার্যক্রম পরিচালনা সহ সার্বিক পরিবেশ বজায় রাখতে আইনজীবী ও আদালত ভবন পুনঃনির্মাণের পাশাপাশি পূর্ণ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ভবনটির ছাদের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।এটি জরুরি ভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা দরকার, না হইলে যে কোন সময় ছাদ ধ্বসে জীবনহানীর মত ঘটনা ঘটতে পারে।

অন্যদিকে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আক্কাজ আলী বলেন, আইনজীবী ভবন ও আদালত ভবনের সর্বশেষ ভগ্নদশা নিয়ে একাধিকবার বিচারক ও আইনজীবী সমিতির আইন মন্ত্রণালয় সহ প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আদালত ভবনের ছাদ নষ্ট হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ভিজে নষ্ট হচ্ছে। জরুরীভাবে ভবনটির পূর্ণ সংস্কারের প্রয়োজন। তা না হলে ভবনটির ছাদ ধ্বসে যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এদিকে ০৮ (জুলাই) ২০২৫ মঙ্গলবার বিকালে আদালত ভবন নির্মাণের জন্য স্থাপত্য অধিদপ্তর, সেগুনবাগিচা ঢাকা থেকে নির্বাহী স্থপতি সুমন বিশ্বাস আদালত ভবন পরিদর্শনে আসেন। তখন সিনিয়র সহকারী জজ মো. কামরুজ্জামান ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্যাহ সহ আইনজীবী গণ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, আটক ১

পাইকগাছায় পরিত্যক্ত আদালত ভবনে চলছে বিচারিক কার্যক্রম পরিদর্শনে নির্বাহী স্থাপতি সুমন বিশ্বাস

প্রকাশঃ 06:49:20 am, Thursday, 10 July 2025

 

শাহরিয়ার কবির

খুলনার পাইকগাছাই সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের পরিত্যক্ত ভবনে চলছে বিচারিক কার্যক্রম।
দীর্ঘদিন ভবনটির ছাদের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিলেও সংস্কারের অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

উপকূলীয় জনপদে জীবনমানের ও পরিবর্তন এসেছে তবে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। আদালত দুটির পুরনো সেই পরিত্যক্ত ভবনে চলছে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম। দুর্যোগ প্রবণ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা প্রায় ৪০ বছরের অধিক পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ আদালত ভবন গুলো পূর্ণনির্মাণে এখনো পর্যন্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এছাড়া আদালতের ১৫ জন কর্মচারী ৭১ জন আইনজীবী ও ৯০ জন আইনজীবী সহকারী ও তাদের শিক্ষানবিশ ঝুঁকি নিয়ে কর্মরত রয়েছে।

সূত্র জানায়, ১৮৮৪ সালে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সিনিয়র সহকারী জজ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৯ সালে সরকার দেশের উপজেলা পর্যায়ে আদালত গুলো জেলাতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিলেও জেলা সদর থেকে ৬৬ কি: মি: দূরত্ব হওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় আদালতটি পাইকগাছাতে রয়ে যায়। এতে সময়, হয়রানীর হাত থেকে পরিত্রাণ পায় খুলনার পাইকগাছা উপকূলীয় অবহেলিত জনপদের বঞ্চিত সাধারণ মানুষ।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার বলেন যে, প্রতিনিয়ত জরাজীর্ণ আদালত ভবনে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে আশঙ্কায় কাজ করে। নিরাপত্তার স্বার্থে সুষ্ঠুভাবে আদালতের বিচারক কার্যক্রম পরিচালনা সহ সার্বিক পরিবেশ বজায় রাখতে আইনজীবী ও আদালত ভবন পুনঃনির্মাণের পাশাপাশি পূর্ণ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ভবনটির ছাদের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।এটি জরুরি ভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা দরকার, না হইলে যে কোন সময় ছাদ ধ্বসে জীবনহানীর মত ঘটনা ঘটতে পারে।

অন্যদিকে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আক্কাজ আলী বলেন, আইনজীবী ভবন ও আদালত ভবনের সর্বশেষ ভগ্নদশা নিয়ে একাধিকবার বিচারক ও আইনজীবী সমিতির আইন মন্ত্রণালয় সহ প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আদালত ভবনের ছাদ নষ্ট হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ভিজে নষ্ট হচ্ছে। জরুরীভাবে ভবনটির পূর্ণ সংস্কারের প্রয়োজন। তা না হলে ভবনটির ছাদ ধ্বসে যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এদিকে ০৮ (জুলাই) ২০২৫ মঙ্গলবার বিকালে আদালত ভবন নির্মাণের জন্য স্থাপত্য অধিদপ্তর, সেগুনবাগিচা ঢাকা থেকে নির্বাহী স্থপতি সুমন বিশ্বাস আদালত ভবন পরিদর্শনে আসেন। তখন সিনিয়র সহকারী জজ মো. কামরুজ্জামান ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্যাহ সহ আইনজীবী গণ উপস্থিত ছিলেন।