Dhaka 1:13 am, Monday, 29 June 2026

পাইকগাছায় টানা বৃষ্টিতে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

 

শাহরিয়ার কবির

চলতি বছরের আষাঢ় মাসের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টি শুরু হয়ে এখনো পর্যন্ত চলছে।গত ২৩ দিনের টানা বৃষ্টিতে উপকূলীয় নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আর সেই সাথে বেড়েছে জনদূর্ভোগ। কখনো ভারী কখনো মাঝারি তার ফাঁকে ফাঁকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি লেগেই আছে।এ বৃষ্টি থামার যেনো কোন অবকাশ নেই। এতে করে বিড়ম্বোনায় পড়েছে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ।

উপজেলার গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি ও রাড়ুলী উঁচু এলাকা হলেও বাকী ৬টি ইউনিয়ন নিচু এলাকায় অবস্থিত। সামান্য বৃষ্টি হলে এ সকল এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তবে গত দিনের ভারী বর্ষণে উঁচু এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। পৌর বাজারের স্বর্ণ পট্টি, মাছ বাজারসহ বিভিন্ন রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামীন রাস্তাগুলি পানিতে তলিয়ে থাকে। বাড়ির উঠানে পানিতে তলিয়ে থাকায় সাধারণ মানুষ বিড়াম্বনায় পড়েছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে শ্রমজীবী মানুষরা কাজেে যেতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়ে আর্থিক অনাটনের ভুগছে।

উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে,কৃষি অফিস ও আদালত চত্তরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে কয়েকবার একটানা ভারী বর্ষণে পাইকগাছার বিস্তির্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এবছর আষাঢ় মাসের প্রথম থেকে একটানা গুড়ি গুড়ি, হালকা ও ভারি বৃষ্টি লেগে আছে। এতে আমন ধানের বীজ তলা, সবজি ক্ষেত, মৎস্য লীজ ঘের, নার্সারী, পুকুর, বাগান, রাস্তা ও বসতবাড়ী তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার সদর ইউনিয়ন গদাইপুরের কয়েক’শ নার্সারী ক্ষেত পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবজি ক্ষেত ও আমন ধান ঝড়ো হাওয়ায় পড়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েক দিনের একটানা বৃষ্টিতে মানুষের জনদূর্ভোগ বেড়েই চলেছে। গদাইপুর ইউনিয়নের কৃষক সামাদ গাজী জানান, ভারী বৃষ্টিতে নার্সারী, সবজি ও ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। তার কুল, পেয়ারা ও লেবুর প্রায় তিন হাজার ছোট চারা পানির নিচে তলিয়ে আছে। বাড়ির উঠান পর্যন্ত তালিয়ে রয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এলাকাবাসির একই অভিযোগ, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ানের পানি নিষস্কাশনের ড্রেন ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি বের হতে পারছে না। তাছাড়া ব্যক্তি স্বার্থে কিছু মানুষ তার বাড়ির সামনের বা পাশের ড্রেনটি বন্ধ করে রাখায় বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পানি ঠিক মত বের হতে পারছে না। এতে করে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।পাইকগাছা মেইন সড়কের গোলাবাড়ী, সলুয়া, নতুন বাজার ও জিরো পযেন্ট এলাকার ভাঙ্গা রাস্তা আরো ভেঙ্গে ছোট ছোট ডোবায় পরিণত হয়েছে। যানবাহন ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে।

পাইকগাছা বাজারের বস্ত্র ব্যাবসায়ী রামপ্রসাদ, হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী রুহুল আমিন, জাহাঙ্গীর , ফল ব্যবসায়ী গোয়ুর বলেন, এত বৃষ্টিতে মানুষ বাইরে বের হতে পারছে না। জরুরি কাজ ছাড়া বাজারে মানুষের উপস্থিতিতে কম সেই সাথে বেচা কেনা নেই বললে চলে। মানুষ বাজার ঘাটে আসতে না পারলে কেনা বেচা হবে কেমন করে।এমন ভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে বিপদে পড়ে যাব। কারণ অধিকাংশ ব্যবসায়ী লোনের টাকায় ব্যবসা বাণিজ্য করে। কেনাবেচা না করতে পারলে সমিতি ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হবে।

পাইকগাছা পৌর বাজারের ভ্যান চালক রিয়াজুল, জিরো পয়েন্টের রিয়াদ হোসেন, গদাইপুরের সুবান সরদার জানান, এত বৃষ্টির ভেতর ভ্যান নিয়ে বের হতে পারছেন না। ফলে তাদের আয়রোজগার নেই বললেই চলে। যখন বৃষ্টি কম হচ্ছে তখন তারা রাস্তায় বের হচ্ছে। বৃষ্টিতে ভিজে দীর্ঘ সময় চালাতে পারছেন না অল্প কিছু টাকা আয় হলে ফিরে যাচ্ছেন বাড়ি। সারা দিনের ভিতরে একদুই ঘন্টা চালিয়ে ১০০/১৫০ যা হচ্ছে সেটা নিয়ে পরিবারের জন্য বাজার করে নিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন জানান, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে এলাকা প্লাবিত হয়ে আমন ধানের বীজ তলা তলিয়ে গেছে ও সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। আমাদের উপসহকারি কর্মকর্তারা ইউনিয়ানে কাজ করছেন। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই প্লাবিত এলাকা পানি সরে গেলে আমন ধানের চারার তেমন ক্ষতি হবে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন বলেন, ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি নিষস্কাশনের জন্য নদীর স্লুইস গেটগুলি উন্মুক্ত রাখাসহ বিভিন্ন পানি নিঃস্কাশনের ড্রেনগুলি পরিস্কার করার জন্য টিমগুলি কাজ করছে। সবাই কে সতর্ক থাকতে হবে উপজেলার কোথাও পানি বেঁধে থাকলে দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হলে উপজেলার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কম হবে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, আটক ১

পাইকগাছায় টানা বৃষ্টিতে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

প্রকাশঃ 06:48:16 am, Thursday, 10 July 2025

 

শাহরিয়ার কবির

চলতি বছরের আষাঢ় মাসের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টি শুরু হয়ে এখনো পর্যন্ত চলছে।গত ২৩ দিনের টানা বৃষ্টিতে উপকূলীয় নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আর সেই সাথে বেড়েছে জনদূর্ভোগ। কখনো ভারী কখনো মাঝারি তার ফাঁকে ফাঁকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি লেগেই আছে।এ বৃষ্টি থামার যেনো কোন অবকাশ নেই। এতে করে বিড়ম্বোনায় পড়েছে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ।

উপজেলার গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি ও রাড়ুলী উঁচু এলাকা হলেও বাকী ৬টি ইউনিয়ন নিচু এলাকায় অবস্থিত। সামান্য বৃষ্টি হলে এ সকল এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তবে গত দিনের ভারী বর্ষণে উঁচু এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। পৌর বাজারের স্বর্ণ পট্টি, মাছ বাজারসহ বিভিন্ন রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামীন রাস্তাগুলি পানিতে তলিয়ে থাকে। বাড়ির উঠানে পানিতে তলিয়ে থাকায় সাধারণ মানুষ বিড়াম্বনায় পড়েছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে শ্রমজীবী মানুষরা কাজেে যেতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়ে আর্থিক অনাটনের ভুগছে।

উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে,কৃষি অফিস ও আদালত চত্তরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে কয়েকবার একটানা ভারী বর্ষণে পাইকগাছার বিস্তির্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এবছর আষাঢ় মাসের প্রথম থেকে একটানা গুড়ি গুড়ি, হালকা ও ভারি বৃষ্টি লেগে আছে। এতে আমন ধানের বীজ তলা, সবজি ক্ষেত, মৎস্য লীজ ঘের, নার্সারী, পুকুর, বাগান, রাস্তা ও বসতবাড়ী তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার সদর ইউনিয়ন গদাইপুরের কয়েক’শ নার্সারী ক্ষেত পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবজি ক্ষেত ও আমন ধান ঝড়ো হাওয়ায় পড়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েক দিনের একটানা বৃষ্টিতে মানুষের জনদূর্ভোগ বেড়েই চলেছে। গদাইপুর ইউনিয়নের কৃষক সামাদ গাজী জানান, ভারী বৃষ্টিতে নার্সারী, সবজি ও ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। তার কুল, পেয়ারা ও লেবুর প্রায় তিন হাজার ছোট চারা পানির নিচে তলিয়ে আছে। বাড়ির উঠান পর্যন্ত তালিয়ে রয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এলাকাবাসির একই অভিযোগ, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ানের পানি নিষস্কাশনের ড্রেন ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি বের হতে পারছে না। তাছাড়া ব্যক্তি স্বার্থে কিছু মানুষ তার বাড়ির সামনের বা পাশের ড্রেনটি বন্ধ করে রাখায় বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পানি ঠিক মত বের হতে পারছে না। এতে করে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।পাইকগাছা মেইন সড়কের গোলাবাড়ী, সলুয়া, নতুন বাজার ও জিরো পযেন্ট এলাকার ভাঙ্গা রাস্তা আরো ভেঙ্গে ছোট ছোট ডোবায় পরিণত হয়েছে। যানবাহন ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে।

পাইকগাছা বাজারের বস্ত্র ব্যাবসায়ী রামপ্রসাদ, হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী রুহুল আমিন, জাহাঙ্গীর , ফল ব্যবসায়ী গোয়ুর বলেন, এত বৃষ্টিতে মানুষ বাইরে বের হতে পারছে না। জরুরি কাজ ছাড়া বাজারে মানুষের উপস্থিতিতে কম সেই সাথে বেচা কেনা নেই বললে চলে। মানুষ বাজার ঘাটে আসতে না পারলে কেনা বেচা হবে কেমন করে।এমন ভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে বিপদে পড়ে যাব। কারণ অধিকাংশ ব্যবসায়ী লোনের টাকায় ব্যবসা বাণিজ্য করে। কেনাবেচা না করতে পারলে সমিতি ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হবে।

পাইকগাছা পৌর বাজারের ভ্যান চালক রিয়াজুল, জিরো পয়েন্টের রিয়াদ হোসেন, গদাইপুরের সুবান সরদার জানান, এত বৃষ্টির ভেতর ভ্যান নিয়ে বের হতে পারছেন না। ফলে তাদের আয়রোজগার নেই বললেই চলে। যখন বৃষ্টি কম হচ্ছে তখন তারা রাস্তায় বের হচ্ছে। বৃষ্টিতে ভিজে দীর্ঘ সময় চালাতে পারছেন না অল্প কিছু টাকা আয় হলে ফিরে যাচ্ছেন বাড়ি। সারা দিনের ভিতরে একদুই ঘন্টা চালিয়ে ১০০/১৫০ যা হচ্ছে সেটা নিয়ে পরিবারের জন্য বাজার করে নিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন জানান, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে এলাকা প্লাবিত হয়ে আমন ধানের বীজ তলা তলিয়ে গেছে ও সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। আমাদের উপসহকারি কর্মকর্তারা ইউনিয়ানে কাজ করছেন। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই প্লাবিত এলাকা পানি সরে গেলে আমন ধানের চারার তেমন ক্ষতি হবে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন বলেন, ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি নিষস্কাশনের জন্য নদীর স্লুইস গেটগুলি উন্মুক্ত রাখাসহ বিভিন্ন পানি নিঃস্কাশনের ড্রেনগুলি পরিস্কার করার জন্য টিমগুলি কাজ করছে। সবাই কে সতর্ক থাকতে হবে উপজেলার কোথাও পানি বেঁধে থাকলে দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হলে উপজেলার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কম হবে।