Dhaka 1:11 am, Monday, 29 June 2026

জবি রেজিস্ট্রারের পদত্যাগের দাবি শিক্ষার্থীদের

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইকেল চুরির অভিযোগ জানাতে গিয়ে রেজিস্ট্রার কতৃক শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দিনের পদত্যাগ দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) রেজিস্ট্রার কতৃক শিক্ষার্থী হেনস্থার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসলে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

এদিকে এ ঘটনায় রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ চেয়ে মধ্যরাতে একটি ঝটিকা মিছিলও করেছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘রেজিস্টারের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘স্বৈরাচারের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘দালালদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবেনা’, ‘এক দুই তিন চার, রেজিস্টার গদি ছাড়’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।

রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী তওসিব মাহমুদ সোহান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে বলেন, শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব যে রেজিস্ট্রার নিতে চায় না,সেই রেজিস্ট্রার শিক্ষার্থীদেরও প্রয়োজন নাই। জবি রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ চাই।

নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী তাকরিম আহমেদ ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, জবির রেজিস্ট্রাররের পদত্যাগ চাই। এরকম আচরণের একজন মানুষ কীভাবে প্রশাসনে আছে, বুঝে পাই না। শিক্ষক নামেরও কলঙ্ক। সবসময় শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ করে আসছে। এরকম একজনকে আমাদের গার্ডিয়ান হিসেবে মোটেই চাই না।

রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে ড. গিয়াস উদ্দিনের দ্বারা হেনস্তা ও দায়িত্বহীনতা আচরণের অভিযোগ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র নওশীন নওয়ার জয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, আরও ছ’মাস আগের কথা। হল আর আবাসন সংক্রান্ত ব্যাপারে ওনার কাছে যাওয়া হয়েছিলো। ওনার ওইদিনের দুর্ব্যবহারের পর রেজিস্ট্রার অফিসে আর যাওয়ার রুচি কখনও হয়নি। অবাক হয়েছিলাম, পুরো প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মধ্যে এমন উদ্ভট ব্যবহারের মানুষ একজনও নেই।

জবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি এ কে এম রাকিব লেখেন, রেজিস্ট্রার মহোদয়ের দাম্ভিকতার পরিচয় আমরা অনেক আগেই পেয়েছি। তিনি কতটা শিক্ষার্থীবান্ধব, তা তার কথাবার্তাই স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। আজ তিনি শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করে নিজের ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়েছেন।

রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ চেয়ে জবি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মাসুদ রানা নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, রেজিস্ট্রার সাহেব, শেখ হাসিনা হয়ে উঠার চেষ্টা করবেন না। আপনি যা করেছেন এটা ক্ষমার অযোগ্য। আপনাকে আর প্রশাসনে দেখতে চাই না। আপনি ডিপার্টমেন্টে ফিরে যান।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসে শহীদ সাজিদ অ্যাকাডেমিক ভবনের গ্যারেজ থেকে গত তিন মাসে একাধিক সাইকেল চুরির ঘটনা নিয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে যান ইভান তাহসীভসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এসময় রেজিস্ট্রার এর সমাধান না করে উলটো অভিযোগকারীর উপর চড়াও হয়ে রুম থেকে বের করে দেন।

তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের মালামালের নিরাপত্তা দিতে পারবো না, মালামাল শিক্ষার্থীদের নিজ দায়িত্বে রাখতে হবে। শিক্ষার্থীরা কী খাবে, কোথায় থাকবে? এই দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের না। শিক্ষার্থীদের কিছু হলে এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয়ের না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর দায়ভার নিতে পারবে না। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে রেজিস্ট্রার বলেন, বের হয়ে যাও, ওকে বের করে দাও। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেনো পড়তে আসো এলাকার কলেজে পড়লেই তো পারতে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, আটক ১

জবি রেজিস্ট্রারের পদত্যাগের দাবি শিক্ষার্থীদের

প্রকাশঃ 03:33:32 am, Thursday, 24 April 2025
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইকেল চুরির অভিযোগ জানাতে গিয়ে রেজিস্ট্রার কতৃক শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দিনের পদত্যাগ দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) রেজিস্ট্রার কতৃক শিক্ষার্থী হেনস্থার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসলে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

এদিকে এ ঘটনায় রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ চেয়ে মধ্যরাতে একটি ঝটিকা মিছিলও করেছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘রেজিস্টারের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘স্বৈরাচারের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘দালালদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবেনা’, ‘এক দুই তিন চার, রেজিস্টার গদি ছাড়’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।

রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী তওসিব মাহমুদ সোহান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে বলেন, শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব যে রেজিস্ট্রার নিতে চায় না,সেই রেজিস্ট্রার শিক্ষার্থীদেরও প্রয়োজন নাই। জবি রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ চাই।

নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী তাকরিম আহমেদ ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, জবির রেজিস্ট্রাররের পদত্যাগ চাই। এরকম আচরণের একজন মানুষ কীভাবে প্রশাসনে আছে, বুঝে পাই না। শিক্ষক নামেরও কলঙ্ক। সবসময় শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ করে আসছে। এরকম একজনকে আমাদের গার্ডিয়ান হিসেবে মোটেই চাই না।

রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে ড. গিয়াস উদ্দিনের দ্বারা হেনস্তা ও দায়িত্বহীনতা আচরণের অভিযোগ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র নওশীন নওয়ার জয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, আরও ছ’মাস আগের কথা। হল আর আবাসন সংক্রান্ত ব্যাপারে ওনার কাছে যাওয়া হয়েছিলো। ওনার ওইদিনের দুর্ব্যবহারের পর রেজিস্ট্রার অফিসে আর যাওয়ার রুচি কখনও হয়নি। অবাক হয়েছিলাম, পুরো প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মধ্যে এমন উদ্ভট ব্যবহারের মানুষ একজনও নেই।

জবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি এ কে এম রাকিব লেখেন, রেজিস্ট্রার মহোদয়ের দাম্ভিকতার পরিচয় আমরা অনেক আগেই পেয়েছি। তিনি কতটা শিক্ষার্থীবান্ধব, তা তার কথাবার্তাই স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। আজ তিনি শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করে নিজের ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়েছেন।

রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ চেয়ে জবি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মাসুদ রানা নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, রেজিস্ট্রার সাহেব, শেখ হাসিনা হয়ে উঠার চেষ্টা করবেন না। আপনি যা করেছেন এটা ক্ষমার অযোগ্য। আপনাকে আর প্রশাসনে দেখতে চাই না। আপনি ডিপার্টমেন্টে ফিরে যান।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসে শহীদ সাজিদ অ্যাকাডেমিক ভবনের গ্যারেজ থেকে গত তিন মাসে একাধিক সাইকেল চুরির ঘটনা নিয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে যান ইভান তাহসীভসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এসময় রেজিস্ট্রার এর সমাধান না করে উলটো অভিযোগকারীর উপর চড়াও হয়ে রুম থেকে বের করে দেন।

তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের মালামালের নিরাপত্তা দিতে পারবো না, মালামাল শিক্ষার্থীদের নিজ দায়িত্বে রাখতে হবে। শিক্ষার্থীরা কী খাবে, কোথায় থাকবে? এই দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের না। শিক্ষার্থীদের কিছু হলে এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয়ের না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর দায়ভার নিতে পারবে না। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে রেজিস্ট্রার বলেন, বের হয়ে যাও, ওকে বের করে দাও। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেনো পড়তে আসো এলাকার কলেজে পড়লেই তো পারতে।