Dhaka 9:16 pm, Sunday, 28 June 2026

নলকূপের পানিতে কীটনাশক মিশিয়ে পান, ৬ শিশু হাসপাতালে

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় খেলার সময় নলকূপের পানির সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে ছয় শিশু। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কাচারীতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে ভর্তি শিশুরা হলো- কাচারীতলা গ্রামের কামিরুল শাহের ছেলে হোসাইন শাহ (৪), সাইফুল শাহের মেয়ে মরিয়ম (৭), সাগর খাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ (৩), হাসান মন্ডলের মেয়ে জান্নাতুল (৯), রতন শাহের ছেলে রোকেয়া (৯) এবং মারুফ শাহের ছেলে মার্ফিয়া (৬)।

শিশুদের স্বজনরা জানান, কাচারীতলা গ্রামের রমজান মন্ডল সোমবার বিকেলের পর ঘাস মারার কীটনাশক জমিতে ছিটিয়ে বোতল ফেলে দিয়ে পাশের আম বাগানে বিশ্রাম নিচ্ছিল। পরে কয়েকজন শিশু খেলতে খেলতে ওই বোতলে থাকা সামান্য ওষুধ রাস্তার পাশের একটি নলকূপের পানিতে মিশিয়ে দেয়। পরে শিশুরা ওই পানি পানও করে।

এরপর সন্ধ্যার দিকে কামিরুল শাহর ছেলে হোসাইনের পেটে ব্যথা শুরু হয়। তখন ওই শিশুর সঙ্গে কথা বলে নলকূপের কাছে গিয়ে কীটনাশকের বোতল পায় অভিভাবকরা। পরে শিশুটিকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রাত ৯টার পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে রাতেই কীটনাশক মেশানো পানি পান করা অপর পাঁচ শিশুর পেটে ও গলা ব্যথা, বমি শুরু শুরু হয়। রাতেই তাদেরও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিশু হোসাইনের মা মমতাজ খাতুন বলেন, ছেলের পেট ব্যথা শুরু হলে হরিণাকুণ্ডু হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে চিকিৎসক সদর হাসপাতালে পাঠায়। সদর হাসপাতালে ওয়াশ করে বিষ বের করা হয়েছে।

আরেক শিশু মার্ফিয়ার বাবা মারুফ শাহ বলেন, মেয়েটার হঠাৎ করেই সন্ধ্যার পর পেটে ও গলায় ব্যথা শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর বমি করতে থাকে। তখনই সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন মেয়েটা একটু সুস্থ আছে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেদী ইসলাম টিটু বলেন, শিশুরা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছে। তাদের শারীরিক অবস্থা শঙ্কামুক্ত মনে হচ্ছে। অধিকতর পর্যবেক্ষণের জন্য শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।

হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি এম এ রউফ খান বলেন, ঘটনাটি শোনার পর গ্রামটিতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। অসাবধানতাবশত খেলার ছলে শিশুরা নলকূপের পানির সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি শত্রুতামূলক কোনো কিছু না। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগও করেনি।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তেরখাদায় বিনামূল্যে রোপা আমন ধানের প্রণোদনা বীজ ও সার বিতরণ

নলকূপের পানিতে কীটনাশক মিশিয়ে পান, ৬ শিশু হাসপাতালে

প্রকাশঃ 10:36:33 am, Tuesday, 22 April 2025
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় খেলার সময় নলকূপের পানির সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে ছয় শিশু। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কাচারীতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে ভর্তি শিশুরা হলো- কাচারীতলা গ্রামের কামিরুল শাহের ছেলে হোসাইন শাহ (৪), সাইফুল শাহের মেয়ে মরিয়ম (৭), সাগর খাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ (৩), হাসান মন্ডলের মেয়ে জান্নাতুল (৯), রতন শাহের ছেলে রোকেয়া (৯) এবং মারুফ শাহের ছেলে মার্ফিয়া (৬)।

শিশুদের স্বজনরা জানান, কাচারীতলা গ্রামের রমজান মন্ডল সোমবার বিকেলের পর ঘাস মারার কীটনাশক জমিতে ছিটিয়ে বোতল ফেলে দিয়ে পাশের আম বাগানে বিশ্রাম নিচ্ছিল। পরে কয়েকজন শিশু খেলতে খেলতে ওই বোতলে থাকা সামান্য ওষুধ রাস্তার পাশের একটি নলকূপের পানিতে মিশিয়ে দেয়। পরে শিশুরা ওই পানি পানও করে।

এরপর সন্ধ্যার দিকে কামিরুল শাহর ছেলে হোসাইনের পেটে ব্যথা শুরু হয়। তখন ওই শিশুর সঙ্গে কথা বলে নলকূপের কাছে গিয়ে কীটনাশকের বোতল পায় অভিভাবকরা। পরে শিশুটিকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রাত ৯টার পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে রাতেই কীটনাশক মেশানো পানি পান করা অপর পাঁচ শিশুর পেটে ও গলা ব্যথা, বমি শুরু শুরু হয়। রাতেই তাদেরও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিশু হোসাইনের মা মমতাজ খাতুন বলেন, ছেলের পেট ব্যথা শুরু হলে হরিণাকুণ্ডু হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে চিকিৎসক সদর হাসপাতালে পাঠায়। সদর হাসপাতালে ওয়াশ করে বিষ বের করা হয়েছে।

আরেক শিশু মার্ফিয়ার বাবা মারুফ শাহ বলেন, মেয়েটার হঠাৎ করেই সন্ধ্যার পর পেটে ও গলায় ব্যথা শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর বমি করতে থাকে। তখনই সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন মেয়েটা একটু সুস্থ আছে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেদী ইসলাম টিটু বলেন, শিশুরা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছে। তাদের শারীরিক অবস্থা শঙ্কামুক্ত মনে হচ্ছে। অধিকতর পর্যবেক্ষণের জন্য শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।

হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি এম এ রউফ খান বলেন, ঘটনাটি শোনার পর গ্রামটিতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। অসাবধানতাবশত খেলার ছলে শিশুরা নলকূপের পানির সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি শত্রুতামূলক কোনো কিছু না। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগও করেনি।