Dhaka 7:15 pm, Sunday, 28 June 2026

টুঙ্গিপাড়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিধবা নারীর ধান কেটে দিলেন এমপি এস এম জিলানী

 

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ):কাজী শাহীন 

 

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত মজুরির কারণে নিজের জমির ধান কাটতে পারছিলেন না তিন কন্যা সন্তানের জননী ও বিধবা নারী নমিতা বিশ্বাস (৫০)। এমন খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে নেমে তার ধান কেটে দেন।

বুধবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গুয়াদানা গ্রামে বিধবা নারী নমিতা বিশ্বাসের প্রায় ২ বিঘা জমির ধান কাটায় অংশ নেন এমপি এস এম জিলানী ও বিএনপি নেতাকর্মীরা।

ধান কাটার এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার মোল্লা, খালিদ বিশ্বাস, পৌর বিএনপির সভাপতি এমদাদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক জিহাদুল ইসলাম বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল সরকার, পাটগাতী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নান্টু শেখ, গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিপক চন্দ্র মন্ডল, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক জসিম শেখসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

ধান কাটা শেষে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে বসে কৃষকদের সাথে সকালের খাবার খান এবং কৃষকের বাড়িতে ধান পৌছে দেন এস এম জিলানী।

বিধবা নারী নমিতা বিশ্বাস বলেন, আমার তিন মেয়ে সন্তান। স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতে হচ্ছে। বর্তমানে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় ১২০০ টাকা হওয়ায় জমির ধান কাটতে পারছিলাম না। এদিকে বৃষ্টির কারণে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও ছিল। পরে এমপি এস এম জিলানী খবর পেয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে এসে আমার ধান কেটে বাড়িতে ধান পৌছে দিয়েছেন। এতে আমি অনেক উপকৃত হয়েছি।

ধান কাটার পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এমপি এস এম জিলানী বলেন, চলতি মৌসুমে কৃষকরা তীব্র শ্রমিক সংকটে ভুগছেন। অনেকেই টাকা দিয়েও সময়মতো ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছেন না। বিশেষ করে গরিব ও অসহায় কৃষকদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের এই দুর্ভোগ কমাতেই দলীয়ভাবে আমরা মাঠে নেমেছি।

যেসব কৃষক শ্রমিক সংকট বা আর্থিক সমস্যার কারণে ধান কাটতে পারছেন না, তাদের ধান কেটে ঘরে তুলে দিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কাজ করবে। কৃষকরা দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, ধান কাটার পুরো মৌসুমজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীরা কৃষকদের সহায়তায় মাঠে থাকবে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে।

স্থানীয়রা জানান, একজন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার এভাবে মাঠে নেমে অসহায় কৃষকের ধান কাটায় অংশ নেওয়ায় এলাকায় ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। এতে কৃষকদের প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় ট্রাকের পেছনে বাসের বেপরোয়া ধাক্কা, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

টুঙ্গিপাড়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিধবা নারীর ধান কেটে দিলেন এমপি এস এম জিলানী

প্রকাশঃ 04:56:07 pm, Wednesday, 13 May 2026

 

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ):কাজী শাহীন 

 

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত মজুরির কারণে নিজের জমির ধান কাটতে পারছিলেন না তিন কন্যা সন্তানের জননী ও বিধবা নারী নমিতা বিশ্বাস (৫০)। এমন খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে নেমে তার ধান কেটে দেন।

বুধবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গুয়াদানা গ্রামে বিধবা নারী নমিতা বিশ্বাসের প্রায় ২ বিঘা জমির ধান কাটায় অংশ নেন এমপি এস এম জিলানী ও বিএনপি নেতাকর্মীরা।

ধান কাটার এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার মোল্লা, খালিদ বিশ্বাস, পৌর বিএনপির সভাপতি এমদাদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক জিহাদুল ইসলাম বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল সরকার, পাটগাতী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নান্টু শেখ, গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিপক চন্দ্র মন্ডল, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক জসিম শেখসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

ধান কাটা শেষে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে বসে কৃষকদের সাথে সকালের খাবার খান এবং কৃষকের বাড়িতে ধান পৌছে দেন এস এম জিলানী।

বিধবা নারী নমিতা বিশ্বাস বলেন, আমার তিন মেয়ে সন্তান। স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতে হচ্ছে। বর্তমানে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় ১২০০ টাকা হওয়ায় জমির ধান কাটতে পারছিলাম না। এদিকে বৃষ্টির কারণে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও ছিল। পরে এমপি এস এম জিলানী খবর পেয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে এসে আমার ধান কেটে বাড়িতে ধান পৌছে দিয়েছেন। এতে আমি অনেক উপকৃত হয়েছি।

ধান কাটার পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এমপি এস এম জিলানী বলেন, চলতি মৌসুমে কৃষকরা তীব্র শ্রমিক সংকটে ভুগছেন। অনেকেই টাকা দিয়েও সময়মতো ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছেন না। বিশেষ করে গরিব ও অসহায় কৃষকদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের এই দুর্ভোগ কমাতেই দলীয়ভাবে আমরা মাঠে নেমেছি।

যেসব কৃষক শ্রমিক সংকট বা আর্থিক সমস্যার কারণে ধান কাটতে পারছেন না, তাদের ধান কেটে ঘরে তুলে দিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কাজ করবে। কৃষকরা দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, ধান কাটার পুরো মৌসুমজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীরা কৃষকদের সহায়তায় মাঠে থাকবে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে।

স্থানীয়রা জানান, একজন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার এভাবে মাঠে নেমে অসহায় কৃষকের ধান কাটায় অংশ নেওয়ায় এলাকায় ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। এতে কৃষকদের প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।