Dhaka 9:29 pm, Sunday, 28 June 2026

ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে বিপাকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ

 

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি 

চলমান শৈত্যপ্রবাহে খুলনা বিভাগের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। উপকূলঘেঁষা খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলাসহ ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত বিরাজ করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসব অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দিনের বিভিন্ন সময়ে তা ১১ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। আকাশে ঘন মেঘের কারণে দিনের বেলাতেও সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে শীতের অনুভূতি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি।

ভোর রাত থেকেই ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও অনেক স্থানে আলো-আঁধারি পরিবেশ বিরাজ করছে। এর ফলে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মহাসড়ক, গ্রামীণ সড়ক ও নদীপথে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। শীত ও কুয়াশার প্রভাবে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ এবং জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

শীতের প্রভাব পড়েছে কর্মজীবন ও শিক্ষাক্ষেত্রেও। অনেক শিক্ষার্থী তীব্র শীতের কারণে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও জেলেরা ভোরের ঠান্ডা এড়াতে কাজে যেতে দেরি করছেন কিংবা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে আয়-রোজগারে টান পড়ছে এবং নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে।

কৃষি খাতে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে উদ্বেগজনক। বোরো মৌসুমের শুরুতেই বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। পাইকগাছা, কয়রা, ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘন কুয়াশা ও কম তাপমাত্রার কারণে বীজতলার চারা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে না। অনেক বীজতলায় পাতায় হলদে ভাব দেখা দিয়েছে, আবার কোথাও চারা পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, তাপমাত্রা যদি আরও কয়েকদিন ১০ থেকে ১২ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করে, তবে বোরো ধান উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কৃষি বিভাগ বীজতলা ঢেকে রাখা, হালকা সেচ দেওয়া এবং প্রয়োজনে পলিথিন ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র, ছিন্নমূল ও ভাসমান মানুষ। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে অনেককে খোলা আকাশের নিচে কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে। হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও রাস্তার পাশে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা।

স্বাস্থ্য খাতেও শীতের প্রভাব স্পষ্ট। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় চিকিৎসালয়গুলোতে সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা সবাইকে গরম কাপড় ব্যবহার, ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা এবং শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিন তাপমাত্রা একই মাত্রায় থাকতে পারে। এ অবস্থায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার, প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তেরখাদায় বিনামূল্যে রোপা আমন ধানের প্রণোদনা বীজ ও সার বিতরণ

ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে বিপাকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ

প্রকাশঃ 04:33:33 pm, Tuesday, 6 January 2026

 

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি 

চলমান শৈত্যপ্রবাহে খুলনা বিভাগের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। উপকূলঘেঁষা খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলাসহ ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত বিরাজ করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসব অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দিনের বিভিন্ন সময়ে তা ১১ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। আকাশে ঘন মেঘের কারণে দিনের বেলাতেও সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে শীতের অনুভূতি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি।

ভোর রাত থেকেই ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও অনেক স্থানে আলো-আঁধারি পরিবেশ বিরাজ করছে। এর ফলে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মহাসড়ক, গ্রামীণ সড়ক ও নদীপথে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। শীত ও কুয়াশার প্রভাবে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ এবং জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

শীতের প্রভাব পড়েছে কর্মজীবন ও শিক্ষাক্ষেত্রেও। অনেক শিক্ষার্থী তীব্র শীতের কারণে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও জেলেরা ভোরের ঠান্ডা এড়াতে কাজে যেতে দেরি করছেন কিংবা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে আয়-রোজগারে টান পড়ছে এবং নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে।

কৃষি খাতে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে উদ্বেগজনক। বোরো মৌসুমের শুরুতেই বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। পাইকগাছা, কয়রা, ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘন কুয়াশা ও কম তাপমাত্রার কারণে বীজতলার চারা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে না। অনেক বীজতলায় পাতায় হলদে ভাব দেখা দিয়েছে, আবার কোথাও চারা পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, তাপমাত্রা যদি আরও কয়েকদিন ১০ থেকে ১২ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করে, তবে বোরো ধান উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কৃষি বিভাগ বীজতলা ঢেকে রাখা, হালকা সেচ দেওয়া এবং প্রয়োজনে পলিথিন ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র, ছিন্নমূল ও ভাসমান মানুষ। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে অনেককে খোলা আকাশের নিচে কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে। হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও রাস্তার পাশে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা।

স্বাস্থ্য খাতেও শীতের প্রভাব স্পষ্ট। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় চিকিৎসালয়গুলোতে সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা সবাইকে গরম কাপড় ব্যবহার, ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা এবং শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিন তাপমাত্রা একই মাত্রায় থাকতে পারে। এ অবস্থায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার, প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।