Dhaka 12:54 am, Monday, 29 June 2026

খুলনার আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন

খুলনায় একই পরিবারের দুই শিশু ও তাদের নানিকে নির্মমভাবে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্।

 

জানা গেছে, পারিবারিক সম্পত্তির দখলকে কেন্দ্র করে চালানো হয়েছে নৃশংস এ হত্যাযজ্ঞ। রক্তের সম্পর্কের বাঁধন যেখানে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেখানে লোভ আর প্রতিহিংসার কাছে হার মেনে ঝরে গেল তিনটি নিরপরাধ প্রাণ।

 

এর আগে, গত ১৬ নভেম্বর খুলনা নগরীর লবণচরা থানা এলাকায় সংঘটিত হয় নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এতে আপন ভাই-বোন শিশু ফাতিহা, মুস্তাকিম এবং তাদের নানি মহিতুন্নেছাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তাদেরই আত্মীয় শেখ মোহাম্মদ শামীম আহমেদ।

 

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ বলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার দুই শিশুর বাবা বাদী শেফার আহম্মেদ ও গ্রেপ্তার আসামি শেখ মোহাম্মদ শামীম আহমেদ সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই। দীর্ঘদিন তাদের মধ্যে রুপসার পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলছিল।

 

 

তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শামীম রুপসা থানার একটি অস্ত্র মামলায় কারাগারে যায়। কারাগারে থাকাকালে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। সেখান থেকে বের হয়ে শামীম কারাগারে পরিচিত সন্ত্রাসীদের টাকার বিনিময়ে ভাড়া করে প্রতিপক্ষ সেফার আহম্মেদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ১৬ নভেম্বর সেফার আহম্মেদের বাড়িতে প্রবেশ করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

 

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ঘটনার পর আসামি পলাতক থাকে এবং গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেন। বুধবার গভীর রাতে শামীম আহমেদকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে তাকে খুলনার লবণচরা থানায় হস্তান্তর করে বিমানবন্দর পুলিশ।

 

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ট্রিপল মার্ডারের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন শামীম। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৩ নম্বর আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরবর্তীতে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও লবণচরা থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইউসুফ আলী বলেন, আমরা আগে থেকে জেনেছিলাম এ মামলার সন্দেহভাজন ব্যক্তি শামীম যে কোনো মুহূর্তে দেশের বাইরে চলে যেতে পারেন। এমন সংবাদে দেশের প্রত্যেক বর্ডারে তার ছবি সংবলিত তথ্য পাঠানো হয়। গত বুধবার গভীর রাতে ফ্রান্সে যাওয়ার আগে বিমানবন্দর পুলিশ তাকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, আটক ১

খুলনার আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন

প্রকাশঃ 05:33:56 pm, Saturday, 29 November 2025

খুলনায় একই পরিবারের দুই শিশু ও তাদের নানিকে নির্মমভাবে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্।

 

জানা গেছে, পারিবারিক সম্পত্তির দখলকে কেন্দ্র করে চালানো হয়েছে নৃশংস এ হত্যাযজ্ঞ। রক্তের সম্পর্কের বাঁধন যেখানে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেখানে লোভ আর প্রতিহিংসার কাছে হার মেনে ঝরে গেল তিনটি নিরপরাধ প্রাণ।

 

এর আগে, গত ১৬ নভেম্বর খুলনা নগরীর লবণচরা থানা এলাকায় সংঘটিত হয় নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এতে আপন ভাই-বোন শিশু ফাতিহা, মুস্তাকিম এবং তাদের নানি মহিতুন্নেছাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তাদেরই আত্মীয় শেখ মোহাম্মদ শামীম আহমেদ।

 

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ বলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার দুই শিশুর বাবা বাদী শেফার আহম্মেদ ও গ্রেপ্তার আসামি শেখ মোহাম্মদ শামীম আহমেদ সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই। দীর্ঘদিন তাদের মধ্যে রুপসার পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলছিল।

 

 

তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শামীম রুপসা থানার একটি অস্ত্র মামলায় কারাগারে যায়। কারাগারে থাকাকালে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। সেখান থেকে বের হয়ে শামীম কারাগারে পরিচিত সন্ত্রাসীদের টাকার বিনিময়ে ভাড়া করে প্রতিপক্ষ সেফার আহম্মেদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ১৬ নভেম্বর সেফার আহম্মেদের বাড়িতে প্রবেশ করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

 

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ঘটনার পর আসামি পলাতক থাকে এবং গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেন। বুধবার গভীর রাতে শামীম আহমেদকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে তাকে খুলনার লবণচরা থানায় হস্তান্তর করে বিমানবন্দর পুলিশ।

 

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ট্রিপল মার্ডারের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন শামীম। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৩ নম্বর আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরবর্তীতে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও লবণচরা থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইউসুফ আলী বলেন, আমরা আগে থেকে জেনেছিলাম এ মামলার সন্দেহভাজন ব্যক্তি শামীম যে কোনো মুহূর্তে দেশের বাইরে চলে যেতে পারেন। এমন সংবাদে দেশের প্রত্যেক বর্ডারে তার ছবি সংবলিত তথ্য পাঠানো হয়। গত বুধবার গভীর রাতে ফ্রান্সে যাওয়ার আগে বিমানবন্দর পুলিশ তাকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।