ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের দক্ষিণ পাশে পূর্ব বিএস ডাঙ্গী গ্রামে অসহায় শিক্ষক মনির হোসেনের পৈত্রিক বসতভিটার জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম মো. আলতাফ হোসেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মনির হোসেন জানান, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি তাঁর ছয় শতাংশ জমির ওপর বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি ওই জমিতে একটি ছোট দালান নির্মাণের কাজ শুরু করলে প্রতিবেশী আলতাফ হোসেন তাতে বাধা দেন এবং জমির মালিকানা দাবি করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।
মনির হোসেন, চরভদ্রাসন সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি মৃত আবুল বাশার মোল্যার পুত্র এবং তাঁর বৃদ্ধ মা, বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে বসবাস করছেন।
ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী, দিয়ারা ১১ নং চরভদ্রাসন মৌজার এসএ ১৬৩ নং খতিয়ানের অধীনে দিয়ারা ৮৫০৫ নং দাগে মোট ৩০ শতাংশ জমির একটি অংশে শিক্ষক মনির হোসেনের এই বসতভিটা অবস্থিত। দালানের ছাদ ঢালাইয়ের দিন আলতাফ হোসেন তাঁর সহযোগীদের নিয়ে উপস্থিত হয়ে মালিকানা দাবি করেন।
এ নিয়ে চরভদ্রাসন থানায় একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু আলতাফ হোসেন সালিশের রায় মানেননি। তিনি ২০২২ সালের একটি দলিল (নং ১০৮৯) দেখিয়ে জমির মালিকানা দাবি করেন। তবে শিক্ষক মনির হোসেন দাবি করেন, ওই দলিল ভুয়া, কারণ দলিলের দুই দাতা অপূর্ব লাল বিশ্বাস নারায়ণ ও পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস ভারতীয় নাগরিক।
এ কারণে মনির হোসেন দলিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া, গত ২৩ আগস্ট গভীর রাতে আলতাফ হোসেন ও তাঁর অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রসহ বসতবাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি ফরিদপুরের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালেও আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন।
শিক্ষক মনির হোসেনের অভিযোগ, এক সময়ের সাদাসিধে টেইলার্স কর্মচারী আলতাফ হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিগত ১৬ বছরে নানা কৌশলে জমি দখল করে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
তিনি বলেন, “মানুষের জমি দখল করাই এখন তাঁর নেশা ও পেশা।”
এ বিষয়ে শিক্ষকের প্রতিবেশী বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “শিক্ষকের পিতা আবুল বাশার মোল্যা এই জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। আলতাফ হোসেন ওই জমির খোলা অংশ দখল করতে চাচ্ছেন। এতে তাঁর সামনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পেছনের জমির মধ্যে সংযোগ তৈরি হয়ে সেটি বিশাল সম্পদে পরিণত হবে।”
বিষয়টি নিয়ে বুধবার উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. ফয়সাল আহাম্মেদ সরেজমিন তদন্ত করেন। এ সময় উভয় পক্ষই উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আলতাফ হোসেন বলেন, “মনির হোসেনের ২৫ বছরের পুরোনো বসতভিটা এটি সত্য। এমনকি তাঁর দালান তৈরির সময় আমি নিজেও সহযোগিতা করেছি। তবে এখন আমি কাগজপত্রে জমির মালিক হলে, আমার অংশ আমাকে দেবে না কেন?”
শিক্ষক মনির হোসেনের দাবি, আইনের প্রতি আস্থা রেখেই তিনি তাঁর পৈত্রিক ভিটা রক্ষায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। প্রভাবশালী দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সঠিক পদক্ষেপ এবং বিচার প্রত্যাশা করছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।
দেশের তথ্য ডেস্ক 



















