Dhaka 10:33 pm, Sunday, 28 June 2026

বর্ণিল সাজে সুসজ্জিত কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ লেক

 

কালাম তালুকদার গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

বর্ণিল সাজে সেজেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ লেক।

একসময় যেখানে ছিল ময়লা আবর্জনা আর কচুরীপানার ভাগার আজ সেখানে দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য।

লেকের চারিপাশে ফুটওয়াক তৈরি করা হয়েছে। লেকপাড়ে বসার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে শতাধিক রঙ্গিন টুল। সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করা হয়েছে লেকপাড় সড়ক। লেকে নামানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন চারটি প্যাডেল বোট।

রবিবার (০৫ অক্টোবর) দুপুরে লেকের সৌন্দর্যবর্ধন কাজ ও লেকবোট উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক।

এ সময় উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো: মাসুম, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার এস এম শাহজাহান সিরাজ, কৃষি অফিসার দোলন চন্দ্র রায়, কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার হাফিজুর রহমান, পল্লী উন্নয়ন অফিসার আবু তাহের হেলালসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের পর থেকেই লেকে নানা বয়সের মানুষেরা ভীড় জমাচ্ছে অপার আনন্দে। লেকটি এখন পরিচিতি পেয়েছে বিনোদন স্পট হিসেবে।

রবিবার সন্ধ্যায় সরেজমিন লেকপাড়ে গিয়ে দেখা যায়, নানা বয়সের ও নানা শ্রেণিপেশার মানুষ ভীড় প্যাডেল বোটে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছে।

৫ম শ্রেণির ছাত্রী লাবিবা বলেন, আমাদের ঘোরার কোন জায়গা ছিলনা। এখন এই লেকের বোটে চড়ে খুব আনন্দ পেয়েছি। লেকের পাড়ে বসার জন্য খুব সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে।

কোটালীপাড়া কল্যাণ সংঘের সভাপতি সোহেল শেখ বলেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে লেকটির পুরো চেহারাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। নর্দমার কারনে এখানে মশার উপদ্রব ছিলো। অব্যবস্থাপনার কারনে লেকের পাড়ে হাসপাতালে রোগীরা দুর্ভোগে ছিল। এখন শুধু এসবেরই অবসান হয়নি বরং কোটালীপাড়াবাসীর জন্য বিনোদন স্পটে পরিণত হয়েছে।

কোটালীপাড়া সরকারি আদর্শ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সমেন মজুমদার বলেন, প্যাডেল বোট দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয়, কারণ এটি একটি পরিবেশবান্ধব ও শান্ত বিনোদন। এর মাধ্যমে মানুষ জলজ জীবনকে বিরক্ত না করে শান্তভাবে লেকে ঘোরাঘুরি করতে পারে, যা একে পরিবার ও বন্ধুদের জন্য একটি উপভোগ্য অভিজ্ঞতায় পরিণত করে। কোটালীপাড়ার দক্ষিণ সীমান্তে মাচারতারা গ্রামে একটি শিশু পার্ক থাকলেও যাতায়াত সমস্যা ও দূরবর্তী হওয়ায় সেখানে নিয়মিত যাওয়া সম্ভব হয়না। উপজেলা পরিষদের এই লেকটি এখন সকলের মনের খোরাক জোগাবে।

কবি ও সাহিত্যিক মিন্টু রায় বলেন, কোটালীপাড়ার দক্ষিণ সীমান্তের মাচারতারা গ্রামে একটি শিশু পার্ক থাকলেও দূরত্ব ও যাতায়াত সমস্যার কারণে সেখানে নিয়মিত যাওয়া অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই উপজেলা পরিষদের এই লেক এখন হয়ে উঠছে মানুষের নিকটস্থ একটি বিনোদনের ঠিকানা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিক—সবাই এখানে এসে সময় কাটাবে ও আনন্দ খুঁজে নিবে একসাথে।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, লেকটিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে আশাকরছি এটি কোটালীপাড়াবাসীর জন্য একটি বিনোদন স্পট হিসেবে পরিচিতি পাবে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় লেকের চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। লেকের পাড়ে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানগুলোর কারণে পানির বোতল, কাগজের প্যাকেটসহ নানা আবর্জনা লেকে ফেলে যাতে পানি দূষিত না হতে পারে, এবং কোন ধরনের বিশৃংখলা না হয় সেজন্য সার্বক্ষনিক নজরদারীতে রাখা হবে পুরো এলাকা। আপাতত এক ব্যক্তিকে বোড চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি লেকের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাসহ রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য জনসাধারণের কাছ থেকে নামমাত্র শুভেচ্ছামুল্যে নিয়ে লেকটিতে প্যাডেল বোট পরিচালনা করছেন।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, আটক ১

বর্ণিল সাজে সুসজ্জিত কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ লেক

প্রকাশঃ 09:20:42 am, Monday, 6 October 2025

 

কালাম তালুকদার গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

বর্ণিল সাজে সেজেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ লেক।

একসময় যেখানে ছিল ময়লা আবর্জনা আর কচুরীপানার ভাগার আজ সেখানে দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য।

লেকের চারিপাশে ফুটওয়াক তৈরি করা হয়েছে। লেকপাড়ে বসার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে শতাধিক রঙ্গিন টুল। সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করা হয়েছে লেকপাড় সড়ক। লেকে নামানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন চারটি প্যাডেল বোট।

রবিবার (০৫ অক্টোবর) দুপুরে লেকের সৌন্দর্যবর্ধন কাজ ও লেকবোট উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক।

এ সময় উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো: মাসুম, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার এস এম শাহজাহান সিরাজ, কৃষি অফিসার দোলন চন্দ্র রায়, কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার হাফিজুর রহমান, পল্লী উন্নয়ন অফিসার আবু তাহের হেলালসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের পর থেকেই লেকে নানা বয়সের মানুষেরা ভীড় জমাচ্ছে অপার আনন্দে। লেকটি এখন পরিচিতি পেয়েছে বিনোদন স্পট হিসেবে।

রবিবার সন্ধ্যায় সরেজমিন লেকপাড়ে গিয়ে দেখা যায়, নানা বয়সের ও নানা শ্রেণিপেশার মানুষ ভীড় প্যাডেল বোটে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছে।

৫ম শ্রেণির ছাত্রী লাবিবা বলেন, আমাদের ঘোরার কোন জায়গা ছিলনা। এখন এই লেকের বোটে চড়ে খুব আনন্দ পেয়েছি। লেকের পাড়ে বসার জন্য খুব সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে।

কোটালীপাড়া কল্যাণ সংঘের সভাপতি সোহেল শেখ বলেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে লেকটির পুরো চেহারাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। নর্দমার কারনে এখানে মশার উপদ্রব ছিলো। অব্যবস্থাপনার কারনে লেকের পাড়ে হাসপাতালে রোগীরা দুর্ভোগে ছিল। এখন শুধু এসবেরই অবসান হয়নি বরং কোটালীপাড়াবাসীর জন্য বিনোদন স্পটে পরিণত হয়েছে।

কোটালীপাড়া সরকারি আদর্শ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সমেন মজুমদার বলেন, প্যাডেল বোট দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয়, কারণ এটি একটি পরিবেশবান্ধব ও শান্ত বিনোদন। এর মাধ্যমে মানুষ জলজ জীবনকে বিরক্ত না করে শান্তভাবে লেকে ঘোরাঘুরি করতে পারে, যা একে পরিবার ও বন্ধুদের জন্য একটি উপভোগ্য অভিজ্ঞতায় পরিণত করে। কোটালীপাড়ার দক্ষিণ সীমান্তে মাচারতারা গ্রামে একটি শিশু পার্ক থাকলেও যাতায়াত সমস্যা ও দূরবর্তী হওয়ায় সেখানে নিয়মিত যাওয়া সম্ভব হয়না। উপজেলা পরিষদের এই লেকটি এখন সকলের মনের খোরাক জোগাবে।

কবি ও সাহিত্যিক মিন্টু রায় বলেন, কোটালীপাড়ার দক্ষিণ সীমান্তের মাচারতারা গ্রামে একটি শিশু পার্ক থাকলেও দূরত্ব ও যাতায়াত সমস্যার কারণে সেখানে নিয়মিত যাওয়া অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই উপজেলা পরিষদের এই লেক এখন হয়ে উঠছে মানুষের নিকটস্থ একটি বিনোদনের ঠিকানা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিক—সবাই এখানে এসে সময় কাটাবে ও আনন্দ খুঁজে নিবে একসাথে।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, লেকটিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে আশাকরছি এটি কোটালীপাড়াবাসীর জন্য একটি বিনোদন স্পট হিসেবে পরিচিতি পাবে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় লেকের চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। লেকের পাড়ে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানগুলোর কারণে পানির বোতল, কাগজের প্যাকেটসহ নানা আবর্জনা লেকে ফেলে যাতে পানি দূষিত না হতে পারে, এবং কোন ধরনের বিশৃংখলা না হয় সেজন্য সার্বক্ষনিক নজরদারীতে রাখা হবে পুরো এলাকা। আপাতত এক ব্যক্তিকে বোড চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি লেকের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাসহ রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য জনসাধারণের কাছ থেকে নামমাত্র শুভেচ্ছামুল্যে নিয়ে লেকটিতে প্যাডেল বোট পরিচালনা করছেন।