Dhaka 12:25 am, Monday, 29 June 2026

খুলনায় সাবেক মেয়র-এমপিসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দেশের তথ্য ডেস্কঃ

খুলনায় গত বছরের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে ছাত্র ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিন চাচাতো ভাইসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৫৫ নেতার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ১২ আগস্ট এ মামলা দায়ের করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি। রোববার (১৭ আগস্ট) আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের আদেশ দেন।

মামলার আবেদনে উল্লেখিত আসামিরা হলেন, কেসিসি’র সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, সাবেক সংসদ সদস্য এসএম কামাল হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, যুবলীগ নেতা শেখ সোহেল, সাবেক সংসদ সদস্য নারায়ণচন্দ্র চন্দ, সাবেক সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু, সাবেক সংসদ সদস্য রশীদুজ্জামান মোড়ল, রইজ হাওলাদার, এড. সাইফুল ইসলাম, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শফিকুর রহমান পলাশ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহাজালাল সুজন, সাবেক কেএমপি কমিশনার মোজাম্মেল হক, খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) খুলনার ইকবাল বাহার চৌধুরী, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার সোনালী সেন।

এছাড়া সাবেক এডিসি গোপিনাথ কানজিলাল, সাবেক ডিবি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান, জহিরুল ইসলাম, আমজাদ, আবুল কালাম আজাদ, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম, ঢামেক’র ছাত্রলীগের ক্যাডার ডা. সিয়াম, ছাত্রলীগ ক্যাডার ও পরিচালক ডিএমসি স্কলারস ডা. মঈনুল, শেখ ওমর আলী, আবজাল শিকারী, মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, রতন সরদার, সোহেল হাসান রুমি, ২৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডন, স্বেচ্ছাসেবকলীগ খুলনা মহানগর সভাপতি আসাদুজ্জামান রাসেল, কেসিসি’র সাবেক ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শাহাদাত হোসেন মিনা, ইসমাইল, শিপার, এবিএম সাত্তার, মো. মিজান শেখ, শফিকুল ইসলাম, রতন মন্ডল, মো. জসিম শিকদার, মো. সাবুদ্দিন, মোহাম্মদ শিকদার, নাসির, মো. খায়রুল বাসার, মো. নাজির হোসেন, মো. কামাল হোসেন, মো. শরিফুল ইসলাম, শাহাজাদা খান, নজরুল ইসলাম, শরীফ আতিয়ার রহমান, রাজ্জাক, সুজা, সৈয়দ মুরসালিন প্রিন্স এবং শেখ শামীমকে মামলার আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা মার্চ ফর জাস্টিস বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি সাতরাস্তা মোড় পৌছালে ১-১০ নং আসামির নির্দেশে অন্যান্যরা ছাত্রদের লক্ষ্য করে শর্টগান, পিস্তল বোমা এবং ইট নিয়ে হামলা করে। এতে অন্তত ১৫-২০ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে গেলে সেখানেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গরীব নেওয়াজ ক্লিনিকে হামলার সময় ৮ ও ৩৬ নম্বর আসামির বিরুদ্ধে আহতদের পুলিশ ভ্যানে তুলে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বাদী সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, ‘৩১ জুলাই আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে গেলে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ আমাদের ওপর বর্বর হামলা চালায়। আমার বহু বন্ধু রক্তাক্ত হয়। এক বছর পার হলেও কেউ বিচারের আওতায় আসেনি। বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বলেন, ‘হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, আটক ১

খুলনায় সাবেক মেয়র-এমপিসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশঃ 01:15:27 pm, Tuesday, 19 August 2025

দেশের তথ্য ডেস্কঃ

খুলনায় গত বছরের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে ছাত্র ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিন চাচাতো ভাইসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৫৫ নেতার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ১২ আগস্ট এ মামলা দায়ের করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি। রোববার (১৭ আগস্ট) আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের আদেশ দেন।

মামলার আবেদনে উল্লেখিত আসামিরা হলেন, কেসিসি’র সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, সাবেক সংসদ সদস্য এসএম কামাল হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, যুবলীগ নেতা শেখ সোহেল, সাবেক সংসদ সদস্য নারায়ণচন্দ্র চন্দ, সাবেক সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু, সাবেক সংসদ সদস্য রশীদুজ্জামান মোড়ল, রইজ হাওলাদার, এড. সাইফুল ইসলাম, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শফিকুর রহমান পলাশ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহাজালাল সুজন, সাবেক কেএমপি কমিশনার মোজাম্মেল হক, খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) খুলনার ইকবাল বাহার চৌধুরী, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার সোনালী সেন।

এছাড়া সাবেক এডিসি গোপিনাথ কানজিলাল, সাবেক ডিবি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান, জহিরুল ইসলাম, আমজাদ, আবুল কালাম আজাদ, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম, ঢামেক’র ছাত্রলীগের ক্যাডার ডা. সিয়াম, ছাত্রলীগ ক্যাডার ও পরিচালক ডিএমসি স্কলারস ডা. মঈনুল, শেখ ওমর আলী, আবজাল শিকারী, মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, রতন সরদার, সোহেল হাসান রুমি, ২৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডন, স্বেচ্ছাসেবকলীগ খুলনা মহানগর সভাপতি আসাদুজ্জামান রাসেল, কেসিসি’র সাবেক ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শাহাদাত হোসেন মিনা, ইসমাইল, শিপার, এবিএম সাত্তার, মো. মিজান শেখ, শফিকুল ইসলাম, রতন মন্ডল, মো. জসিম শিকদার, মো. সাবুদ্দিন, মোহাম্মদ শিকদার, নাসির, মো. খায়রুল বাসার, মো. নাজির হোসেন, মো. কামাল হোসেন, মো. শরিফুল ইসলাম, শাহাজাদা খান, নজরুল ইসলাম, শরীফ আতিয়ার রহমান, রাজ্জাক, সুজা, সৈয়দ মুরসালিন প্রিন্স এবং শেখ শামীমকে মামলার আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা মার্চ ফর জাস্টিস বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি সাতরাস্তা মোড় পৌছালে ১-১০ নং আসামির নির্দেশে অন্যান্যরা ছাত্রদের লক্ষ্য করে শর্টগান, পিস্তল বোমা এবং ইট নিয়ে হামলা করে। এতে অন্তত ১৫-২০ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে গেলে সেখানেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গরীব নেওয়াজ ক্লিনিকে হামলার সময় ৮ ও ৩৬ নম্বর আসামির বিরুদ্ধে আহতদের পুলিশ ভ্যানে তুলে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বাদী সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, ‘৩১ জুলাই আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে গেলে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ আমাদের ওপর বর্বর হামলা চালায়। আমার বহু বন্ধু রক্তাক্ত হয়। এক বছর পার হলেও কেউ বিচারের আওতায় আসেনি। বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বলেন, ‘হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’