রাজবাড়ীর পাংশায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জামিন বিশ্বাস নামে একজন নিহত হওয়ার পর তিন গ্রামে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গত ২৪ জুন ৪৯ জনের নাম উল্লেখসহ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে পাংশা মডেল থানায় মামলা করেন নিহত জামিন বিশ্বাসের ছেলে রিপন বিশ্বাস।
অপর দিকে ইউনিয়নের নাবড়াদাহ গ্রামের মৃত মৃত শাহাদাত মন্ডলের ছেলে হাকিম মন্ডলে বাদি হয়ে আকিদুল বিশ্বাসকে প্রধান করে ৯৮ জনের নাম উল্লেখসহ ২৫০/৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। প্রধান আসামি আকিদুল বিশ্বাস পাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে কসবামাজাইল ইউনিয়নের দড়ি বাংলাট, বড় বাংলাট ও পারকোল গ্রাম ও পাট্টা ইউনিয়নের ঢেপামাঝাইল গ্রাম।
জানা গেছে, কসবামাজাইল ইউনিয়নের হাকিম ও সাত্তারের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল। পাট্টা ইউনিয়নের (নিহত) জামিন বিশ্বাস সাত্তারের পক্ষ নিলে বিষয়টি দুই গ্রামের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে জমি বিরোধ আধিপত্য বিস্তারের সংঘাতে রূপ নেয়। গত ২১ জুন সংঘাতে গুরুতর আহত হয় জমিন বিশ্বাস। ওইদিন রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় জমিন বিশ্বাস। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওইরাতেই দড়ি বাংলাট, বড় বাংলাট ও পারকোল গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
’
অপরদিকে মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন শনিবার শিকদারপাড়া এলাকা থেকে আকিদুল বিশ্বাসের নেতৃত্বে হাকিম মন্ডলের উপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
দড়ি বাংলাট, বড় বাংলাট ও পারকোল গ্রামের রোজিনা বেগম, আকলিমা খাতুন, সেলিনা পারভীনসহ একাধিক নারী জানান, ২১ জুন রাতে আমাদের এলাকায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে পাট্টা ইউনিয়নের লোকজন। আমরা ভয়ে আতঙ্কে আছি। অনেক পরিবার সহায়সম্বল, গবাদিপশু ও সন্তানদের নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।
মামলার বাদি রিপন বিশ্বাস বলেন, আমার বাবাতে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি পাংশা থানায় একটি মামলা করেছি। দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের দাবি জানাই এবং আমার বাবাকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।
পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, উপজেলার পাট্টা ও কসবামাজাইল ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জামিন বিশ্বাস নামে একজন নিহত হয়। এসব ঘটনা কেন্দ্র করে থানায় দুটি মামলা হয়েছে। দুই মামলায় সাত শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দেশের তথ্য ডেস্ক 


















