Dhaka 7:17 pm, Sunday, 28 June 2026

কয়রায় পূর্বশত্রুতার জেরে বাড়িতে ঢুকে তরুণীকে কুপিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি

শাহরিয়ার কবির।
খুলনার কয়রা উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢুকে এক তরুণীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ জুন (শুক্রবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সাতহালিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত তরুণীর নাম ফাতেমা খাতুন (৩২)। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মাথায় ১০টি সেলাই দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় আহতের মা মোছা. সুফিয়া খাতুন বাদী হয়ে পরদিন ২৭ জুন কয়রা থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—একই গ্রামের মো. হাফিজুর রহমান শেখ, মোছা. মুক্তা খাতুন, মোছা. হাফিজা খাতুন এবং মোছা. মুশলি খাতুন। তারা বাদীর নিকটতম প্রতিবেশী ও একই বংশের লোক বলে জানা গেছে।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিবাদীগণের সাথে সুফিয়া খাতুনের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে পূর্বশত্রুতা ও বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ঘটনার দিন বিবাদীগণ দেশীয় অস্ত্র, ধারালো দা, লোহার রড, শাবল ও হাতুড়ি নিয়ে বেআইনিভাবে সুফিয়া খাতুনের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা গালিগালাজ সহ পরিবারের সদস্যদের খুন-জখমের হুমকি দিতে থাকে।
একপর্যায়ে ১নং বিবাদী হাফিজুর রহমান শেখ তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে সুফিয়া খাতুনের কন্যা ফাতেমা খাতুনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় সজোরে কোপ মারে। এতে তার মাথায় গভীর ক্ষত তৈরি হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এরপর ২নং বিবাদী মুক্তা খাতুন লোহার রড দিয়ে ফাতেমার মাথায় পুনরায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে। অন্য দুই বিবাদী দূর থেকে তাদের উসকানি ও হুমকি দিচ্ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত ফাতেমাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাদীর দাবি, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা দূর থেকে এখনো তাদের প্রাণনাশের ও লাশ গুম করার হুমকি দিচ্ছে, যার ফলে পুরো পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) ভারপ্রাপ্ত শাহ-আলম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ করা হয়েছে কিনা সেটা দেখে বলতে হবে।,

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় ট্রাকের পেছনে বাসের বেপরোয়া ধাক্কা, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

কয়রায় পূর্বশত্রুতার জেরে বাড়িতে ঢুকে তরুণীকে কুপিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশঃ 10:56:59 am, Sunday, 28 June 2026

শাহরিয়ার কবির।
খুলনার কয়রা উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢুকে এক তরুণীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ জুন (শুক্রবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সাতহালিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত তরুণীর নাম ফাতেমা খাতুন (৩২)। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মাথায় ১০টি সেলাই দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় আহতের মা মোছা. সুফিয়া খাতুন বাদী হয়ে পরদিন ২৭ জুন কয়রা থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—একই গ্রামের মো. হাফিজুর রহমান শেখ, মোছা. মুক্তা খাতুন, মোছা. হাফিজা খাতুন এবং মোছা. মুশলি খাতুন। তারা বাদীর নিকটতম প্রতিবেশী ও একই বংশের লোক বলে জানা গেছে।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিবাদীগণের সাথে সুফিয়া খাতুনের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে পূর্বশত্রুতা ও বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ঘটনার দিন বিবাদীগণ দেশীয় অস্ত্র, ধারালো দা, লোহার রড, শাবল ও হাতুড়ি নিয়ে বেআইনিভাবে সুফিয়া খাতুনের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা গালিগালাজ সহ পরিবারের সদস্যদের খুন-জখমের হুমকি দিতে থাকে।
একপর্যায়ে ১নং বিবাদী হাফিজুর রহমান শেখ তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে সুফিয়া খাতুনের কন্যা ফাতেমা খাতুনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় সজোরে কোপ মারে। এতে তার মাথায় গভীর ক্ষত তৈরি হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এরপর ২নং বিবাদী মুক্তা খাতুন লোহার রড দিয়ে ফাতেমার মাথায় পুনরায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে। অন্য দুই বিবাদী দূর থেকে তাদের উসকানি ও হুমকি দিচ্ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত ফাতেমাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাদীর দাবি, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা দূর থেকে এখনো তাদের প্রাণনাশের ও লাশ গুম করার হুমকি দিচ্ছে, যার ফলে পুরো পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) ভারপ্রাপ্ত শাহ-আলম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ করা হয়েছে কিনা সেটা দেখে বলতে হবে।,