দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে যৌথ বাহিনী। সংসদীয় আসনের বিন্যাস অনুযায়ী, খুলনা-৪ আসনের অধীনে দিঘলিয়া উপজেলার ৪০টি কেন্দ্র এবং খুলনা-৩ আসনের অন্তর্ভুক্ত যোগিপোল ও আড়ংঘাটা ইউনিয়নের ১২টি কেন্দ্রসহ মোট ৫২টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই কেন্দ্রগুলোর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত টহল ও নজরদারি করবেন।
নিরাপত্তার এই মহাপরিকল্পনায় ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল ভার অর্পণ করা হয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওপর। দিঘলিয়া উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মমতাজ খানম এই প্রতিবেদককে বাহিনীর নির্বাচনকালীন বিশেষ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, উপজেলার ৫২টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য সুনির্দিষ্ট ছক তৈরি করা হয়েছে এবং পুরো উপজেলাকে ৫২টি সেকশন বা গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একটি করে সেকশন দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রতি সেকশনে ১৩ জন করে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
মমতাজ খানম আরও উল্লেখ করেন যে, বাহিনীর শৃঙ্খলা ও নেতৃত্ব নিশ্চিতে প্রতিটি গ্রুপে একজন সেকশন কমান্ডার এবং দুইজন সহকারী সেকশন কমান্ডার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একজন সহকারী কমান্ডারকে সার্বক্ষণিক প্রিজাইডিং অফিসারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রাখা হবে। নির্বাচনকালীন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্যরা প্রস্তুত থাকবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যরা ‘AVMIS’ (Ansar & VDP Management Information System) নামক একটি স্মার্ট অ্যাপ ব্যবহার করবেন। সেকশন কমান্ডাররা এই অ্যাপের মাধ্যমে কেন্দ্রের পরিস্থিতির খবরাখবর সরাসরি সদর দপ্তরকে অবহিত করতে পারবেন । কোনো কেন্দ্রে গোলযোগ বা নাশকতার আশঙ্কা দেখা দিলে অ্যাপের ‘ইমারজেন্সি অ্যালার্ট’ ফিচারের মাধ্যমে তারা মুহূর্তেই বিজিবি ও পুলিশের মোবাইল টিমকে সংকেত পাঠাতে পারবেন । এই ডিজিটাল সমন্বয়ের ফলে বিজিবি ও পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্সগুলো দ্রুততম সময়ে যেকোনো কেন্দ্রে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হবেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, দিঘলিয়ার ৫২টি ভোটকেন্দ্রেই আনসার সদস্যরা ব্যালট পেপার ও ভোটবাক্স রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিজিবি ও পুলিশের টহলের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপির তত্ত্বাবধানে এই ডিজিটাল ও শারীরিকভাবে সক্রিয় অবস্থান দিঘলিয়া উপজেলাকে একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীতে পরিণত করবে। প্রশাসনের বিশ্বাস, এই সমন্বিত ও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
দেশের তথ্য ডেস্ক 



















