Dhaka 9:24 pm, Sunday, 28 June 2026

সাতক্ষীরায় জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে কোরিয়া প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়

 

ফয়জুল হক বাবু

 

সুন্দরবন সংলগ্ন জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শ্যামনগরের জলবায়ু পরিস্থিতি, অভিযোজন চ্যালেঞ্জ ও চলমান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সাতক্ষীরায় কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কোরিয়া পরিবেশ শিল্প ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (কেইটিআই)-এর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকাল ৩টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপ-সচিব শাহ আব্দুল সাদী।

 

জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন হাইড্রোকোরের পরিচালক জন সং, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভন কে. কু, কেইটিআই-এর সিনিয়র গবেষণা বিশেষজ্ঞ জাহেয়ুন, সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল, জলবায়ু ও স্থায়িত্ব পরামর্শদাতা রাহুল টেকু ভাসওয়ানি, ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র ডিরেক্টর কাজী এমদাদুল হক, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং এর প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ মাইনুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রনালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জলবায়ু সহযোগী অহোনা মুৎসুদ্দি সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সভায় বক্তারা জানান, সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীর বাঁধ ভাঙনের কারণে প্রতি বছর লবণাক্ততা বাড়ছে। নাজুক বেড়িবাঁধের ফলে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজারো পরিবার এবং জীবিকা হারিয়ে অনেক মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

 

এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট, চিকিৎসা সেবার অভাব এবং লবণাক্ততার কারণে বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বক্তারা টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দীর্ঘস্থায়ী বেড়িবাঁধ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, চিংড়ি শিল্পের আধুনিকায়ন, কোল্ড স্টোরেজ ও হ্যাচারি স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন।

 

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মোঃ নাভিল হোসেন পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাতক্ষীরার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, লবণাক্ততার কারণে জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

আলোচনায় জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় বিকল্প অর্থায়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক অভিযোজন কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

সভায় জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আক্তার বলেন, সরকার, উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে সাতক্ষীরার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলা সম্ভব। তিনি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তেরখাদায় বিনামূল্যে রোপা আমন ধানের প্রণোদনা বীজ ও সার বিতরণ

সাতক্ষীরায় জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে কোরিয়া প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়

প্রকাশঃ 08:11:39 am, Monday, 19 January 2026

 

ফয়জুল হক বাবু

 

সুন্দরবন সংলগ্ন জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শ্যামনগরের জলবায়ু পরিস্থিতি, অভিযোজন চ্যালেঞ্জ ও চলমান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সাতক্ষীরায় কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কোরিয়া পরিবেশ শিল্প ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (কেইটিআই)-এর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকাল ৩টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপ-সচিব শাহ আব্দুল সাদী।

 

জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন হাইড্রোকোরের পরিচালক জন সং, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভন কে. কু, কেইটিআই-এর সিনিয়র গবেষণা বিশেষজ্ঞ জাহেয়ুন, সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল, জলবায়ু ও স্থায়িত্ব পরামর্শদাতা রাহুল টেকু ভাসওয়ানি, ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র ডিরেক্টর কাজী এমদাদুল হক, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং এর প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ মাইনুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রনালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জলবায়ু সহযোগী অহোনা মুৎসুদ্দি সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সভায় বক্তারা জানান, সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীর বাঁধ ভাঙনের কারণে প্রতি বছর লবণাক্ততা বাড়ছে। নাজুক বেড়িবাঁধের ফলে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজারো পরিবার এবং জীবিকা হারিয়ে অনেক মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

 

এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট, চিকিৎসা সেবার অভাব এবং লবণাক্ততার কারণে বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বক্তারা টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দীর্ঘস্থায়ী বেড়িবাঁধ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, চিংড়ি শিল্পের আধুনিকায়ন, কোল্ড স্টোরেজ ও হ্যাচারি স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন।

 

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মোঃ নাভিল হোসেন পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাতক্ষীরার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, লবণাক্ততার কারণে জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

আলোচনায় জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় বিকল্প অর্থায়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক অভিযোজন কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

সভায় জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আক্তার বলেন, সরকার, উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে সাতক্ষীরার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলা সম্ভব। তিনি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।