Dhaka 12:52 am, Monday, 29 June 2026

নিজের ক্রয়কৃত জমি ফেরতের দাবিতে টুঙ্গিপাড়ায় মসজিদের ইমামের সংবাদ সম্মেলন

 

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিজের ক্রয়কৃত জমি দখলমুক্ত ও ফেরতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক মসজিদের ইমাম।

সোমবার (১৩ অক্টোবর ২০২৫) সকাল ১১টায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলার দাউদকান্দি পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ও শ্রীরামকান্দি উত্তরপাড়ার শেখ জহিরউদ্দীন জামে মসজিদের ইমাম মোঃ আজিজুল হক মোল্লা।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোঃ আজিজুল হক মোল্লা জানান, তিনি দাউদকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকার নজিরুল হক মোল্লার ছেলে। ২০০৫ সালে

গওহরডাঙ্গা মৌজার ১৪৫ নং খতিয়ান ও ৬১৫ নং দাগে ছুরাত আলী শেখ, হাফেজ আলী, আরব আলী ও তাদের মা খাতুন বিবির কাছ থেকে তিনি পৌনে পাঁচ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে ক্রয় করেন। চুক্তির পর বিক্রেতারা জমিটি তার দখলে দেন।

 

এরপর তিনি উক্ত জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন এবং বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছপালা রোপণ করেন। কিছুদিন পর যখন তিনি জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করতে চান, তখন বিক্রেতারা নানা অজুহাতে দলিল দিতে টালবাহানা শুরু করেন।

 

তিনি আরও বলেন, তারা আমার কাছ থেকে জমি বিক্রি করার পরও বিভিন্ন সময় আমাকে হয়রানি করতে শুরু করে এবং ওই জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য একাধিক মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে তাদের হয়রানিতে আমি বাধ্য হয়ে কিছুদিনের জন্য জায়গাটি ছেড়ে চলে আসি।

 

পরে সরকার ঘোষণা দেয় যাদের বায়না চুক্তি আছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করতে পারবেন, নতুবা তা বাতিল বলে গণ্য হবে।

এই ঘোষণার পর আজিজুল হক আদালতে আবেদন করেন। আদালত তার মামলা গ্রহণ করে।

 

কিন্তু এরই মধ্যে বিক্রেতাদের চাচাতো ভাই ইয়াদ আলী একই জমি নিয়ে তার বিপক্ষে মামলা দায়ের করেন। ২০০৭ সালে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। পরে আজিজুল হক আপিল করলে ২০১০ সালে আদালত তার পক্ষে রায় দেন।

 

কিন্তু সেখানে থেমে না থেকে, ইয়াদ আলী আবার হাইকোর্টে আপিল করেন, যা ২০১৫ সালে খারিজ হয়ে যায়।

আজিজুল হকের দাবি, আদালতের একাধিক রায়ে তার মালিকানা প্রমাণিত হলেও ওই পক্ষ গোপনে বাটওয়ারা মামলা করে জমিটি নিজেদের নামে নামজারি করে নেয়।

 

এরপর গওহরডাঙ্গা গ্রামের ইমরান শেখ ও ইয়াদ আলী মিলে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় ক্যাডার বাহিনী গঠন করে তার জমি জবরদখল করে নেয়। তারা জোরপূর্বক ওই জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ করে তাকে প্রবেশে বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন আজিজুল হক।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

 

আমি একজন গরিব মানুষ, মসজিদের ইমাম হিসেবে আল্লাহর ঘরে নামাজ পড়াই। আমার কোনো জনবল বা রাজনৈতিক পরিচয় নেই। আদালতের রায় আমার পক্ষে হলেও আমি আমার জমিতে যেতে পারছি না। যারা ক্ষমতার জোরে আমার জমি দখল করেছে, তারা এখন উল্টো আমাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

 

তিনি আরও জানান, বর্তমানে তিনি মামলার রায়ের কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না পাওয়ায় তিনি চরম হতাশায় ভুগছেন।

 

আজিজুল হক মোল্লা বর্তমান সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন,

যাতে আমি আমার বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি ফেরত পাই। আমি কোনো বেআইনি দাবি করছি না। কোর্টের রায় আমার পক্ষে আছে, তারপরও আমি দখল পাচ্ছি না। আমি চাই সরকার আমাকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করুক।

 

সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান, তার জমি যাতে দ্রুত উদ্ধার করে দখল ফেরত দেওয়া হয় এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, আটক ১

নিজের ক্রয়কৃত জমি ফেরতের দাবিতে টুঙ্গিপাড়ায় মসজিদের ইমামের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশঃ 04:35:47 pm, Monday, 13 October 2025

 

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিজের ক্রয়কৃত জমি দখলমুক্ত ও ফেরতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক মসজিদের ইমাম।

সোমবার (১৩ অক্টোবর ২০২৫) সকাল ১১টায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলার দাউদকান্দি পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ও শ্রীরামকান্দি উত্তরপাড়ার শেখ জহিরউদ্দীন জামে মসজিদের ইমাম মোঃ আজিজুল হক মোল্লা।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোঃ আজিজুল হক মোল্লা জানান, তিনি দাউদকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকার নজিরুল হক মোল্লার ছেলে। ২০০৫ সালে

গওহরডাঙ্গা মৌজার ১৪৫ নং খতিয়ান ও ৬১৫ নং দাগে ছুরাত আলী শেখ, হাফেজ আলী, আরব আলী ও তাদের মা খাতুন বিবির কাছ থেকে তিনি পৌনে পাঁচ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে ক্রয় করেন। চুক্তির পর বিক্রেতারা জমিটি তার দখলে দেন।

 

এরপর তিনি উক্ত জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন এবং বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছপালা রোপণ করেন। কিছুদিন পর যখন তিনি জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করতে চান, তখন বিক্রেতারা নানা অজুহাতে দলিল দিতে টালবাহানা শুরু করেন।

 

তিনি আরও বলেন, তারা আমার কাছ থেকে জমি বিক্রি করার পরও বিভিন্ন সময় আমাকে হয়রানি করতে শুরু করে এবং ওই জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য একাধিক মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে তাদের হয়রানিতে আমি বাধ্য হয়ে কিছুদিনের জন্য জায়গাটি ছেড়ে চলে আসি।

 

পরে সরকার ঘোষণা দেয় যাদের বায়না চুক্তি আছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করতে পারবেন, নতুবা তা বাতিল বলে গণ্য হবে।

এই ঘোষণার পর আজিজুল হক আদালতে আবেদন করেন। আদালত তার মামলা গ্রহণ করে।

 

কিন্তু এরই মধ্যে বিক্রেতাদের চাচাতো ভাই ইয়াদ আলী একই জমি নিয়ে তার বিপক্ষে মামলা দায়ের করেন। ২০০৭ সালে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। পরে আজিজুল হক আপিল করলে ২০১০ সালে আদালত তার পক্ষে রায় দেন।

 

কিন্তু সেখানে থেমে না থেকে, ইয়াদ আলী আবার হাইকোর্টে আপিল করেন, যা ২০১৫ সালে খারিজ হয়ে যায়।

আজিজুল হকের দাবি, আদালতের একাধিক রায়ে তার মালিকানা প্রমাণিত হলেও ওই পক্ষ গোপনে বাটওয়ারা মামলা করে জমিটি নিজেদের নামে নামজারি করে নেয়।

 

এরপর গওহরডাঙ্গা গ্রামের ইমরান শেখ ও ইয়াদ আলী মিলে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় ক্যাডার বাহিনী গঠন করে তার জমি জবরদখল করে নেয়। তারা জোরপূর্বক ওই জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ করে তাকে প্রবেশে বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন আজিজুল হক।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

 

আমি একজন গরিব মানুষ, মসজিদের ইমাম হিসেবে আল্লাহর ঘরে নামাজ পড়াই। আমার কোনো জনবল বা রাজনৈতিক পরিচয় নেই। আদালতের রায় আমার পক্ষে হলেও আমি আমার জমিতে যেতে পারছি না। যারা ক্ষমতার জোরে আমার জমি দখল করেছে, তারা এখন উল্টো আমাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

 

তিনি আরও জানান, বর্তমানে তিনি মামলার রায়ের কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না পাওয়ায় তিনি চরম হতাশায় ভুগছেন।

 

আজিজুল হক মোল্লা বর্তমান সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন,

যাতে আমি আমার বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি ফেরত পাই। আমি কোনো বেআইনি দাবি করছি না। কোর্টের রায় আমার পক্ষে আছে, তারপরও আমি দখল পাচ্ছি না। আমি চাই সরকার আমাকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করুক।

 

সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান, তার জমি যাতে দ্রুত উদ্ধার করে দখল ফেরত দেওয়া হয় এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।