ভোলা জেলা প্রতিনিধি :
একটি নবনির্মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কিন্তু এর নাম শুনলেই আপনি থমকে দাঁড়াতে বাধ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম ৩৬ জুলাই অভ্যুত্থান মহাবিদ্যালয়। নাম শুনে আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, জুলাই মাস কি ৩৬ দিনের হয়। ক্যালেন্ডারের পাতায় এমন কোনো তারিখের অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও, কেন এই মহাবিদ্যালয়ের এমন অদ্ভুত নামকরণ। কী সেই রহস্য যা এই নামের আড়ালে লুকিয়ে আছে। একটি চমকপ্রদ নাম নিয়ে তৈরি হওয়া এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। চাঞ্চল্যকর এই দৃশ্য ভোলার দৌলতখানের জয়নগর এলাকার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১ একর জমির উপর টিনের চালা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই মহাবিদ্যালয়টি। অবকাঠামো হয়তো খুবই সাধারণ কিন্তু স্থানীয়দের চোখে-মুখে এর গুরুত্ব অপরিসীম। তাঁরা জানান, এই এলাকায় এর আগে কোনো মহাবিদ্যালয় ছিল না। উচ্চশিক্ষার জন্য এখানকার শিক্ষার্থীদের যেতে হতো অনেক দূর-দূরান্তে। ফলে একদিকে যেমন অর্থ ও সময় নষ্ট হতো তেমনি বহু মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনার প্রতি মনোবল কমে যেত।
কিন্তু আসল রহস্য লুকিয়ে আছে নামকরণের পেছনের গল্পে। এই মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ এমরান হোসেনের ভাষ্য, এই ৩৬ জুলাই’ তারিখটি আসলে একটি প্রতীকী নাম। ৫ই আগস্ট যে ছাত্র-জনতা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তাঁদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই নামকরণ করা হয়েছে। তাঁর যুক্তি ক্যালেন্ডারে তারিখটি না থাকলেও এই অদ্ভুত নামটির মাধ্যমেই মানুষ এটিকে মনে রাখবে। প্রতিষ্ঠাতা চান যতদিন এই মহাবিদ্যালয়টি থাকবে ততদিন মানুষ এই প্রতীকী ৩৬ জুলাই-এর স্মৃতি বহন করে চলবে।
প্রতিষ্ঠাতা তাঁর যুক্তি দিলেও, এই অস্বাভাবিক নাম নিয়ে সমালোচনা যে হচ্ছে না তা নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমন আলোচনা হচ্ছে তেমনি অনেকেই এই ধরনের নামকরণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে স্থানীয়রা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁদের কাছে নামকরণের চেয়েও বড় বিষয় হলো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। এই সমালোচনা ও বাস্তব প্রয়োজনের টানাপোড়েনে কতটা এগিয়ে যেতে পারবে ৩৬ জুলাই অভ্যুত্থান মহাবিদ্যালয়।
নাম বিভ্রাট সমালোচনা বা বিতর্কের উর্ধ্বে উঠে এই ঘটনা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দাঁড় করায়। একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করা কি নামকরণের বিতর্কের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। যদিও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম আরও পরিচিত এবং স্বাভাবিক হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল তবুও প্রতিষ্ঠাতার প্রতীকী ভাবনা এবং তার সাথে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ। এই দুটি বিষয় এখানে প্রধান হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, প্রতিষ্ঠানটি নামের বিতর্ক জয় করে কীভাবে শিক্ষার আলোয় নিজেদের জায়গা করে নেয়।
দেশের তথ্য ডেস্ক 



















