Dhaka 5:20 pm, Sunday, 28 June 2026

সুন্দরবনে ভারতীয় জলদস্যুদের হাতে ৬ জেলে অপহরণ

সাতক্ষীরার সুন্দরবন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় জলদস্যু বাহিনী ৬ বাংলাদেশি জেলেকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মামুন্দো নদীর মারডাঙ্গা খাল ও বৈকেরি নদীর সংযোগস্থল সংলগ্ন হরিণটানা খাল থেকে তাদের অপহরণ করা হয়।

অপহৃতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— রাশিদুল ইসলাম (৩৫) ও আতাউর রহমানের (৩২)। তারা শ্যামনগরের কালিঞ্চি গ্রামের মান্নান বরকন্দাজ ও টেংরাখালীর সামছুর রহমানের ছেলে। বাকি চারজনের নাম জানা না গেলেও নৌকার মালিক কালিঞ্চি গ্রামের মমতাজ ভাঙি মোশারফ হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৯ সদস্যের সশস্ত্র জলদস্যু দলটি চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি ভারতীয় নৌযান নিয়ে এ হামলা চালায়। প্রথমে সকালে মারডাঙ্গা খাল থেকে দুই জেলেকে অপহরণ করা হয়। পরে দুপুরে হরিণটানা খাল এলাকায় চারটি নৌকা থেকে আরও চারজনকে জিম্মি করে নিয়ে যায় তারা। এ সময় একদল জেলে বনভূমিতে পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পান।

টেংরাখালীর নুরুল হক জানান, দুদিন আগে বন বিভাগের পাশ নিয়ে তারা বনে প্রবেশ করেছিলেন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভারতীয় একটি বড় বোটে জলদস্যুরা এসে তাদের ধাওয়া করে। তারা বনভূমিতে পালিয়ে গেলে দস্যুরা শুধু নৌকা নিয়ে যায়।

অপহৃত জেলেদের সহযোগীরা দাবি করেন, দস্যুরা নিজেদের ‘কাজল-মুন্না বাহিনী’ পরিচয় দিয়ে মুক্তিপণের জন্য এ অপহরণ করেছে। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ওই বাহিনীর কয়েক সহযোগী পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, মুক্তিপণের টাকা ভারতে পাঠানো হতো।

অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শতাধিক গ্রামবাসী নদীপথে দস্যুদের মোকাবিলায় রওনা হলেও বিজিবি সদস্যরা তাদের মাঝপথে আটকে দেন বলে অভিযোগ। রমজাননগর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, ‘অপহরণের খবর পেয়ে আমরা গ্রামবাসী মিলে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু বিজিবি অনুমতি না দেওয়ায় ফিরতে হয়।’

এ বিষয়ে কৈখালী কোস্টগার্ডের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারা ঘটনাটি অবগত আছেন, তবে স্থানীয়দের অভিযানে তারা অংশ নেননি।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির কালবেলাকে জানান, দুই সপ্তাহ আগে একই বাহিনীর তিন সহযোগী যশোর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল। বুধবার আবারও জেলে অপহরণের খবর পাই। পরিবার ও গ্রামবাসীর ডাকে পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল, তবে পরিস্থিতির কারণে ফিরে আসে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় কৃষি বিভাগের উদ্যোগে কৃষকদের হাতে বিনামূল্যে বীজ-সার ও চারা বিতরণ

সুন্দরবনে ভারতীয় জলদস্যুদের হাতে ৬ জেলে অপহরণ

প্রকাশঃ 02:16:05 pm, Wednesday, 17 September 2025

সাতক্ষীরার সুন্দরবন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় জলদস্যু বাহিনী ৬ বাংলাদেশি জেলেকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মামুন্দো নদীর মারডাঙ্গা খাল ও বৈকেরি নদীর সংযোগস্থল সংলগ্ন হরিণটানা খাল থেকে তাদের অপহরণ করা হয়।

অপহৃতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— রাশিদুল ইসলাম (৩৫) ও আতাউর রহমানের (৩২)। তারা শ্যামনগরের কালিঞ্চি গ্রামের মান্নান বরকন্দাজ ও টেংরাখালীর সামছুর রহমানের ছেলে। বাকি চারজনের নাম জানা না গেলেও নৌকার মালিক কালিঞ্চি গ্রামের মমতাজ ভাঙি মোশারফ হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৯ সদস্যের সশস্ত্র জলদস্যু দলটি চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি ভারতীয় নৌযান নিয়ে এ হামলা চালায়। প্রথমে সকালে মারডাঙ্গা খাল থেকে দুই জেলেকে অপহরণ করা হয়। পরে দুপুরে হরিণটানা খাল এলাকায় চারটি নৌকা থেকে আরও চারজনকে জিম্মি করে নিয়ে যায় তারা। এ সময় একদল জেলে বনভূমিতে পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পান।

টেংরাখালীর নুরুল হক জানান, দুদিন আগে বন বিভাগের পাশ নিয়ে তারা বনে প্রবেশ করেছিলেন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভারতীয় একটি বড় বোটে জলদস্যুরা এসে তাদের ধাওয়া করে। তারা বনভূমিতে পালিয়ে গেলে দস্যুরা শুধু নৌকা নিয়ে যায়।

অপহৃত জেলেদের সহযোগীরা দাবি করেন, দস্যুরা নিজেদের ‘কাজল-মুন্না বাহিনী’ পরিচয় দিয়ে মুক্তিপণের জন্য এ অপহরণ করেছে। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ওই বাহিনীর কয়েক সহযোগী পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, মুক্তিপণের টাকা ভারতে পাঠানো হতো।

অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শতাধিক গ্রামবাসী নদীপথে দস্যুদের মোকাবিলায় রওনা হলেও বিজিবি সদস্যরা তাদের মাঝপথে আটকে দেন বলে অভিযোগ। রমজাননগর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, ‘অপহরণের খবর পেয়ে আমরা গ্রামবাসী মিলে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু বিজিবি অনুমতি না দেওয়ায় ফিরতে হয়।’

এ বিষয়ে কৈখালী কোস্টগার্ডের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারা ঘটনাটি অবগত আছেন, তবে স্থানীয়দের অভিযানে তারা অংশ নেননি।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির কালবেলাকে জানান, দুই সপ্তাহ আগে একই বাহিনীর তিন সহযোগী যশোর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল। বুধবার আবারও জেলে অপহরণের খবর পাই। পরিবার ও গ্রামবাসীর ডাকে পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল, তবে পরিস্থিতির কারণে ফিরে আসে।