Dhaka 9:18 pm, Sunday, 28 June 2026

কয়রায় রাস্তা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার

 

খুলনার কয়রা উপজেলায় টিআর/কাবিখা প্রকল্পের আওতায় রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে গিয়ে ‘আমার প্রাণের বাংলাদেশ’ পত্রিকার কয়রা প্রতিনিধি মেহেরাব হোসেনের সাথে দুর্ব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কয়রা সদর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মুর্শিদা খাতুনের দায়িত্বে থাকা ৪ নম্বর কয়রা লঞ্চঘাট থেকে পাঞ্জে খানাহ মসজিদ পর্যন্ত ওয়াবদা সড়কে ইটের সলিং কাজ চলছে। প্রকল্পের বাজেট আনুপাতিকভাবে প্রায় ৩ লাখ টাকা এবং লগবুক অনুসারে রাস্তার দৈর্ঘ্য ৬০০ ফুট, প্রস্থ ৭ ফুট ও বালুর বেধ ৪ ইঞ্চি উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজে মানহীনতা, মাপ কমানো ও উপকরণে অনিয়মের সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গেলে সাংবাদিক মেহেরাব হোসেনের উপর মেম্বার মুর্শিদা খাতুন ও তার স্বামী গ্রামপুলিশ আব্দুল্লাহ ঢালীর পক্ষ থেকে গালিগালাজ, মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা, ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানায়।

সাংবাদিক মেহেরাব হোসেন বলেন—

“বাজেট, মাপ ও মান নিয়ে জানতে চাইলে তারা উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখায়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও কটূক্তি করে এবং তথ্য গোপনের চেষ্টা করে। এটি সাংবাদিকতার কাজে বাধা ও তথ্যের অধিকার ব্যাহতকারী ঘটনা।”

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মুর্শিদা খাতুনের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করলেও পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। গ্রাম পুলিশ আব্দুল্লাহ ঢালীর ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

 

স্থানীয়দের দাবি—প্রকল্পের আর্থিক বিষয়, কাজের মান, মাপজোখ ও উপকরণের গুণগতমান নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন। অন্যদিকে সাংবাদিকের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনায় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী’র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

ঘটনা জানার পর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল্লাহ আল জাবির বলেন—

“বিষয়টি শোনার পরই মেম্বারকে ফোন করে কাজ বন্ধ করতে বলেছি। প্রকল্পে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত হবে না, স্বচ্ছভাবে কাজ করতে হবে।”

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তেরখাদায় বিনামূল্যে রোপা আমন ধানের প্রণোদনা বীজ ও সার বিতরণ

কয়রায় রাস্তা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার

প্রকাশঃ 12:15:19 pm, Monday, 19 January 2026

 

খুলনার কয়রা উপজেলায় টিআর/কাবিখা প্রকল্পের আওতায় রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে গিয়ে ‘আমার প্রাণের বাংলাদেশ’ পত্রিকার কয়রা প্রতিনিধি মেহেরাব হোসেনের সাথে দুর্ব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কয়রা সদর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মুর্শিদা খাতুনের দায়িত্বে থাকা ৪ নম্বর কয়রা লঞ্চঘাট থেকে পাঞ্জে খানাহ মসজিদ পর্যন্ত ওয়াবদা সড়কে ইটের সলিং কাজ চলছে। প্রকল্পের বাজেট আনুপাতিকভাবে প্রায় ৩ লাখ টাকা এবং লগবুক অনুসারে রাস্তার দৈর্ঘ্য ৬০০ ফুট, প্রস্থ ৭ ফুট ও বালুর বেধ ৪ ইঞ্চি উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজে মানহীনতা, মাপ কমানো ও উপকরণে অনিয়মের সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গেলে সাংবাদিক মেহেরাব হোসেনের উপর মেম্বার মুর্শিদা খাতুন ও তার স্বামী গ্রামপুলিশ আব্দুল্লাহ ঢালীর পক্ষ থেকে গালিগালাজ, মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা, ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানায়।

সাংবাদিক মেহেরাব হোসেন বলেন—

“বাজেট, মাপ ও মান নিয়ে জানতে চাইলে তারা উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখায়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও কটূক্তি করে এবং তথ্য গোপনের চেষ্টা করে। এটি সাংবাদিকতার কাজে বাধা ও তথ্যের অধিকার ব্যাহতকারী ঘটনা।”

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মুর্শিদা খাতুনের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করলেও পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। গ্রাম পুলিশ আব্দুল্লাহ ঢালীর ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

 

স্থানীয়দের দাবি—প্রকল্পের আর্থিক বিষয়, কাজের মান, মাপজোখ ও উপকরণের গুণগতমান নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন। অন্যদিকে সাংবাদিকের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনায় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী’র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

ঘটনা জানার পর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল্লাহ আল জাবির বলেন—

“বিষয়টি শোনার পরই মেম্বারকে ফোন করে কাজ বন্ধ করতে বলেছি। প্রকল্পে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত হবে না, স্বচ্ছভাবে কাজ করতে হবে।”