ব্যবসায়ী হত্যা : পরিকল্পনাকারী সাবেক এমপি আউয়ালসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

AWAL.png

দেশের তথ্য ডেস্ক:- 

পল্লবীর ব্যবসায়ী সাহিনুদ্দিন হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়ালসহ ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তবে এ মামলায় সরাসরি আরও দুই আসামির জড়িত থাকার প্রমাণ মিললেও তারা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এম এ আউয়াল সরাসরি হত্যার সঙ্গে জড়িত না থাকলেও তিনি সহায়তা করেছেন। হত্যায় অংশ নেওয়াদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি হত্যার পরিকল্পনাকারী।

অভিযোগপত্রে ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন-এম এ আওয়াল, মোহাম্মদ তাহের, সুমন ব্যাপারী, মুরাদ, টিটু শেখ ওরফে টিটু, গোলাম কিবরিয়া খান, ইব্রাহিম সুমন ওরফে বাওয়া এমন, শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক, রকি তালুকদার ওরফে রকি, নূর মোহাম্মদ হাসান মোতাইত, ইকবাল হোসেন ওরফে ইকবাল নূর, শরীফ, তরিকুল ইসলাম ওরফে ইমন, তুহিন মিয়া, হারুনূর রশীদ ওয়াকে হারুন ও প্রতীক আহমেদ সজীব। এদের মধ্যে সজীব পলাতক রয়েছে।

তবে এজাহার নামীয় আসামি দিপু, কালু ওরফে বাবু ওরফে কালা বাবু, জাহিরুল ইসলাম বাবু, মন্জুরুল হাসান বাবু, কামরুজ্জামান, মরন আলী, লিটন, গোলাম রাজ্জাক, শরিফুল ইসলাম, আবুল ও শফিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তাই তাদের অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও দুই আসামি মানিক মিয়া র‍্যাবের হাতে ও মনির ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন। তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

২০২১ সালের ১৪ মে মিরপুরের সিরামিক রোডে নিজ বাড়ির সামনে খুন হন সাহিনুদ্দিন। তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের মা আকলিমা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই মামলার প্রধান আসামি লক্ষ্মীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়াল। তাকে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাব ও ডিবি জানিয়েছিল, এই হত্যা মামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড এই এমপি আউয়াল। তার নির্দেশেই ৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে ওই যুবককে হত্যা করা হয়েছিল। পরে এই মামলার ১৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি ও র‍্যাব। তারা এত দিন কারাগারে থাকলেও আউয়ালসহ ১৭ জন জামিনে মুক্তি পান।

হত্যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব। এরই জের ধরে এম এ আউয়াল ভাড়াটিয়া কিলার গ্রুপ দিয়ে সাহিনুদ্দিনকে খুনের পরিকল্পনা করেন। মামলাটি প্রথমে ডিবি তদন্ত করে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। তবে বাদী আকলিমা বেগম ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেয়। এরপর পিবিআই তদন্ত করে।

তবে পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছে সাহিনুদ্দিনের মা আকলিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘মামলাটি ডিবি তদন্ত করে কিছু আসামি বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দেয়। তাতে আমি নারাজি দেই। এরপর পিবিআইকে তদন্ত করার জন্য আবেদন করছিলাম। তারা মামলাটি তদন্ত করছে। তারাও অনেককে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে কিছু জানায়নি।

Share this post

PinIt
scroll to top